বাংলাদেশ সীমান্তের নদীতে কুমির ও সাপ ছাড়তে চায় ভারত
বাংলাদেশ সীমান্তের নদীতে কুমির ও সাপ ছাড়তে চায় ভারত
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
প্রাচীনকালে দুর্গ বা প্রাসাদের চারপাশ সুরক্ষিত রাখতে পরিখা খনন করে তাতে কুমির ছেড়ে দেওয়ার গল্প আমরা ইতিহাসে পড়েছি। একবিংশ শতাব্দীতে এসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেই ঐতিহাসিক কৌশলই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গম নদীপথ ও জলাভূমি রক্ষায় এবার কুমির এবং সাপের মতো সরীসৃপ মোতায়েন করার কথা ভাবছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতোয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফেডারেল।
Manual8 Ad Code
বাংলাদেশ ও ভারতের ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বড় একটি অংশ নদীমাতৃক বা জলাভূমি বেষ্টিত। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পক্ষ থেকে আসা এক নির্দেশনার ভিত্তিতে বিএসএফ এই অদ্ভুত কিন্তু কৌশলগত পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে।
গত ২৬ মার্চ বিএসএফ-এর ইস্টার্ন এবং নর্থ-ইস্টার্ন সেক্টর সদর দপ্তরে পাঠানো এক গোপন বার্তায় বলা হয়েছে, যেসব নদীপথ বা পাহাড়ি ছড়ায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে অপারেশনাল প্রয়োজনে সাপ বা কুমির মোতায়েন করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে।
ভারতের এই পদক্ষেপের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পরিকল্পনার অদ্ভুত মিল পাওয়া গেছে। ফ্লোরিডায় ‘অলিগেটর আলকাট্রাজ’ নামক একটি ডিটেনশন সেন্টারের চারপাশে প্রাকৃতিকভাবেই কুমির ও অজগর থাকে, যা বন্দিদের পালানো রোধে কাজ করে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে রিও গ্র্যান্ডে নদীতেও এমন ব্যবস্থা করার কথা বলেছিলেন, যদিও পরে তিনি তা কৌতুক হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভারত অবশ্য বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথেই বিবেচনা করছে।
কেন এই ব্যবস্থা?
Manual3 Ad Code
বিএসএফ বর্তমানে জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৬,২০০ কিলোমিটার সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত ২.৬৫ লাখ কর্মীর একটি বড় অংশ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা নির্বাচনী দায়িত্বের মতো অ-সীমান্তবর্তী কাজে ব্যস্ত থাকে। এছাড়া বাহিনীর প্রায় ২০ শতাংশ সদস্যের বয়স ৪৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং আরও ২০ শতাংশ সদস্য শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট নন। এই জনবল সংকট মেটাতেই প্রকৃতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে।
Manual6 Ad Code
সীমান্ত সুরক্ষায় আধুনিকায়ন ও বাস্তবতা
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিএসএফ-কে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর আওতায় ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। তবে ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে এখনো প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা বেড়াহীন। এর মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমির কারণে বেড়া দেওয়ার অনুপযুক্ত।
মূলত এই এলাকাগুলোতেই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে সরীসৃপ মোতায়েনের এই বিকল্প ও কঠোর পদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।