আলোচনার আগে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মেনে নিয়ে বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা তেহরানের সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার এই দাবির বিষয় নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস।
যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন। ঠিক তখনই এই প্রতিক্রিয়া এসেছে হোয়াইট হাউস থেকে।
Manual7 Ad Code
এর আগে বার্তাসংস্থা রয়টার্সে এক প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বরাতে দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করতে রাজি হয়েছে। ওই সূত্র আরও জানায়, সম্পদ ছাড়ার বিষয়টি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার পর এই অর্থ জব্দ করা হয়। এই অর্থ মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির আয়, যা সেখানকার ব্যাংকগুলোতে সংরক্ষিত ছিল।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালে কাতারের মধ্যস্থতায় বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচ ইরানি নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়।
Manual6 Ad Code
সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, অর্থগুলো কেবল মানবিক খাতে—যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য—ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত থাকবে এবং তা মার্কিন ট্রেজারির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
Manual3 Ad Code
তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর, যা ইরানের মিত্র হিসেবে বিবেচিত, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন পুনরায় এই অর্থ জব্দ করে। তখন মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজন হলে পুরো হিসাবই স্থগিত রাখার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।