এক বছরের ব্যবধানে এলপি গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩৪ শতাংশ!
এক বছরের ব্যবধানে এলপি গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩৪ শতাংশ!
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাজারে এলপি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম) গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ সংকট দেখিয়ে অতি সম্প্রতি কয়েক দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে।
Manual7 Ad Code
নিত্যপ্রয়োজনীয় এই জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সর্বশেষ একবার এলপি গ্যাসের দাম হাজার টাকার নিচে নেমেছিল। এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পণ্যটির দাম। সর্বশেষ ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৪৫০ টাকা। হিসাব করে দেখা গেছে, বছরের ব্যবধানে এলপি গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩৪ শতাংশ।
৪ মাসেই বেড়েছে ৬৩৪ টাকা
Manual4 Ad Code
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে চলতি এপ্রিল মাসে দুইবার এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বছরের প্রথম ৪ মাসেই ৬৩৪ টাকা বেড়ে গেল ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছরের জানুয়ারি মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫৬ টাকায়। এপ্রিলের শুরুতে এক লাফে দাম চলে যায় ১ হাজার ৭২৮ টাকায়। ২ সপ্তাহ পর আরও ২শ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
এলপিজির মূল্য নির্ধারণ একটা রেগুলার প্রসেস। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে প্রতি মাসে কমিশন এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে। সুতরাং যুদ্ধপরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যেমন পরিস্থিতি থাকবে (কম-বেশি), সে অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের যুগ্মসচিব নজরুল ইসলাম সরকার
ব্যবসায়ীদের দাবিই মেনে নেওয়া হলো
এলপিজি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম ওঠানামা করলেও বিইআরসি জাহাজ ভাড়া ও প্রিমিয়াম সঠিকভাবে সমন্বয় করত না বলে অভিযোগ করে আসছিলেন সংশ্লিষ্টরা। এবারের মূল্য নির্ধারণে সে বিষয়গুলোই অনেকটা সমন্বয় করেছে বিইআরসি। ফলে বিইআরসি মূলত ব্যবসায়ীদের দাবিই পূরণ করেছে। ভোক্তাদের কথা সেভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
স্পট মার্কেট থেকে এলপিজি আমদানির প্রিমিয়ামটা সব সময় একরকম থাকে না। বর্তমানে জ্বালানি পণ্যের দাম জিওপলিটিকসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিইআরসি যেটা এখন করেছে সেটা হলো মন্দের ভালো। এখন আমদানি জাহাজের ইনস্যুরেন্স কস্ট তিনগুণ হয়ে গেছে। এই চ্যালেঞ্জের কারণে বিইআরসি মূল্যটা সমন্বয় করেছে। তবে যুদ্ধ থেমে গেলে দাম কমে আসবে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশিদ
২০০৩ সালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গঠিত হয়েছিল ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করে ন্যায্য ও সুলভ মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে। তবে বর্তমান বাজার ব্যবস্থাপনা বলছে, ভোক্তার চাইতে ব্যবসায়ীদের স্বার্থই বেশি রক্ষা করা হচ্ছে। বিইআরসির কর্মপরিকল্পনায় প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির কথা থাকলেও মূলত এলপিজি বাজার একচেটিয়াভাবে বেসরকারি খাতের ওপরই নির্ভরশীল। দেশে সরকারিভাবে তৈরি হওয়া এলপিজিরও তেমন প্রসার ও সরবরাহ নেই।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘স্পট মার্কেট থেকে এলপিজি আমদানির প্রিমিয়ামটা সব সময় একরকম থাকে না। বর্তমানে জ্বালানি পণ্যের দাম জিওপলিটিকসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিইআরসি যেটা এখন করেছে সেটা হলো মন্দের ভালো। এখন আমদানি জাহাজের ইনস্যুরেন্স কস্ট তিনগুণ হয়ে গেছে। এই চ্যালেঞ্জের কারণে বিইআরসি মূল্যটা সমন্বয় করেছে। তবে যুদ্ধ থেমে গেলে দাম কমে আসবে।’
সরকারিভাবে এলপিজির মূল্য যাই নির্ধারণ করা হোক না কেন বাজারে সেই দামে কখনোই বিক্রি করা হয় না। সরকারি মূল্যের চেয়ে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি করা হয়। বর্তমানে অধিকাংশ কোম্পানির ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ টাকার ওপরে। কেউ কেউ ২২০০ টাকাও বিক্রি করছে। অথচ সরকার-নির্ধারিত দাম এখন ১৯৪০ টাকা।
বাজারে ১৯ শতাংশ অংশীদারত্ব নিয়ে এলপিজি বিক্রয়ে বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ওমেরা গ্যাস। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে তাদের প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। বিএম, সানগ্যাসও বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০ টাকার মধ্যে। তবে বসুন্ধরা কোম্পানির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকায়। যদিও বর্তমানে বাজারে তাদের সরবরাহ কম।
বাড়তি চাপে জনজীবন
দেশে সার্বিকভাবে জ্বালানি পণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে একে একে বেড়েছে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের দাম। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দামও বেড়েছে। ফলে তোড়জোড় চলছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোরও। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি বাড়তি চাপ তৈরি করেছে জনজীবনে।
Manual5 Ad Code
মোহাম্মদপুরের স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, ‘যার বাসায় সরকারি গ্যাসের পাইপলাইন আছে, গ্যাস না থাকলেও মাসে মাসে বিল দিতে হয়। আবার এলপিজিও ব্যবহার করতে হয়। শুধু গ্যাসেই চলে যাচ্ছে কয়েক হাজার টাকা। জনগণের ওপর চাপ শুধু বাড়েই, কখনো কমে না।’
সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের যুগ্মসচিব নজরুল ইসলাম সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘এলপিজির মূল্য নির্ধারণ একটা রেগুলার প্রসেস। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে প্রতি মাসে কমিশন এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে। সুতরাং যুদ্ধপরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যেমন পরিস্থিতি থাকবে (কম-বেশি), সে অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হবে।’তথ্য সুএঃ ঢাকা পোস্ট