শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, পুলিশ কর্মকর্তা ও ইউএনওসহ আহত ২৫
শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, পুলিশ কর্মকর্তা ও ইউএনওসহ আহত ২৫
editor
প্রকাশিত মে ১৭, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে একদল শিক্ষার্থীর চলমান আন্দোলন রোববার সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এতে গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, ঊর্ধ্বতন ৩ পুলিশ কর্মকর্তা, ৮ পুলিশ সদস্য, গাজীপুর সদর উপজেলার ইউএনও সাজ্জাত হোসেন ও দৈনিক দিনকালের গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার দেলোয়ার হোসেনসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় উপাচার্য নিয়োগের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দুইপক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল থেকে ডুয়েট ক্যাম্পাসে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে গত বৃহস্পতিবার সরকার ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন। তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নেতাও ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ লাল কার্ড কর্মসূচি নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যোগদান করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে অশালীন স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য গেট খোলার চেষ্টা করেন। এ সময় শিবির সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। এ সময় দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।
Manual1 Ad Code
ভিসির সমর্থক শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রোববার সকাল ১০টার দিকে নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে ডুয়েট ক্যাম্পাসে যান। তিনি ক্যাম্পাসে পৌঁছার আগেই ডুয়েটের বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার আবু তৈয়ব, ডুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক খসরু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিকের উসকানিতে ইসলামী ছাত্রশিবির ডুয়েট শাখার সভাপতি আব্দুল আহাদ, সাধারণ সম্পাদক তাসনীমের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী নতুন ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ‘লাল কার্ড কর্মসূচির’ ব্যানারে মূলফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
অপরদিকে নতুন ভিসি যোগদানের জন্য ক্যাম্পাসের বাইরে একটি মাইক্রোবাসে অপেক্ষা করছিলেন। ভিসিকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আরেক অংশ ছাত্রদলের ব্যানারে মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং উভয়পক্ষ একে অপরকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
Manual2 Ad Code
পরে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা শান্ত হলেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টার সময় ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বাইরে থাকা পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। জবাবে বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরাও পালটা ইটপাটকেল ছোড়ে। দফায় দফায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে আহত অবস্থায় ১৫ জনকে আনা হয়েছে।
গাজীপুর সদর থানার ওসি বলেন, ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। আজ তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ কাজ করছে।সুএঃ যুগান্তর