আজ রবিবার, ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা’

editor
প্রকাশিত মে ৩১, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা’

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের এক বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা।’ পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তি, অর্থ লেনদেন এবং থানার অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যও করা হয়।

Manual2 Ad Code

অডিওতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস (এক ধরনের ব্যবসা)। আমরা কেউ কাউকে ঠকাবো না। সবাই মিলেমিশে থাকবো। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’

ওসি বলেন, ‘পুলিশের যে চাকরিটা এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাবো না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই অধিকার সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ যারা হক মারে রাসূল (সা.) তারে সাফায়েত করবেন না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’

Manual5 Ad Code

ওসি আরও বলেন, ‘বর্তমানে গুপ্ত-গুপ্ত একটা শব্দ আছে, এই শব্দটা আবিষ্কার করছে তারেক জিয়া (প্রধানমন্ত্রী)। আপনারা যে গুপ্ত-গুপ্ত থাকার চেষ্টা করেন এইটা কিন্ত আমরা বুঝতেছি। এই যে সেইদিন মামলাটা হইলো না, এখান থেকে টাকা পয়সা নিয়েছেন। অনেকে আমার কাছে আসছিল টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়ে জানতে। আমি কিন্তু কিছুই জানি না। তারপরও তাদের নানান কিছু বুঝাইয়া দৌড়াইয়া দিছি। আমরা যারা সিস্টেমের মধ্যে আছি, তারা যেন মিলে ঝুলে চলি। বেশি চালাকির দরকার নেই। যে কোনো কাজে আমরা নিজেদের কাউরে বিপদেও ফেলবো না, কাউরে ঠকাবোও না। আরেকটা বিষয় আছে কিছু কিছু ঘটনায় জায়গাতেই চার্জশিট, জায়গাতেই ফাইনাল, ওসি কিছুই জানলো না! আরে ভাই আপনি তো নিজেই থানা একটা খুইল্যা ফেললেন। থানায় তো একজন ওসি আছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। নাইলে নয়টা কইরা ফেললেন দশটার সময় ধরা খাবেন। তখন বুইজেন খবর আছে।’

তবে ভাইরাল হওয়া অডিওর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট অডিওটি ফরেনসিকভাবে যাচাই করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম দাবি করেছেন, অডিওতে থাকা কণ্ঠ তার নয়। কীভাবে এমন একটি রেকর্ড তার নামে প্রচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানিয়েছেন।

Manual5 Ad Code

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে এবং অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Manual3 Ad Code

উল্লেখ্য, এর আগেও কলমাকান্দা থানাকে ঘিরে একটি আলোচিত ঘটনা সামনে আসে। গত ৫ মে চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী ছাড় করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ঘুষের দর-কষাকষির একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থানার এক উপ-পরিদর্শককে প্রত্যাহার করা হয় এবং তৎকালীন ওসিকে বদলি করা হয়েছিল।তথ্য সুএঃ ইত্তেফাক