আজ শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ এক দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ খান

editor
প্রকাশিত জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ণ
ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ এক দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ খান

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual4 Ad Code

গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এ কথা বলেন।

Manual6 Ad Code

পোস্টে রাশেদ খান জানান, ‘গণ-অভ্যুত্থানে মাহফুজ আলমের ভূমিকা সম্পর্কে আব্দুল কাদের তথ্য প্রকাশের পর মাহফুজ আলম শিবিরের ঘরে সব অবদান তুলে দিয়ে নিজেকে কায়দা করে সেইফ করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু ইতোপূর্বে তিনি কখনোই শিবিরের ভূমিকা স্বীকার করেনি! ফেসবুক পোস্টে, মাহফুজ আলম লিখেছেন, অসহযোগ আন্দোলনে কী কী থাকবে, তার একটা খসড়া সাদিক কায়েমকে রেডি করে দিতে বলি, যা আসিফ পরদিন পাঠ করেন। কিন্তু এটাকে ঘুরিয়ে জামায়াতের সংগ্রাম পত্রিকা লিখেছে, ওই রাতেই সাদিক কায়েমকে দিয়ে এক দফা ঘোষণার একটি খসড়া তৈরি করা হয়, যা আসিফ মাহমুদ পাঠ করেন! কীভাবে বয়ান সৃষ্টি করতে হয়, জামায়াত খুব ভালো করেই জানে! অথচ ১ দফার ঘোষণা আসিফ মাহমুদ নয়, নাহিদ ইসলাম পাঠ করেন! আর আসিফ অসহযোগ আন্দোলনের পালনের দিকনির্দেশনা পাঠ করেন।’

Manual7 Ad Code

রাশেদ বলেন, ‘শিবিরের যতটুকু অবদান, ততটুকুর ক্রেডিট নিলে সমস্যা নেই। কিন্তু অতিরঞ্জিত করতে গেলেই গণ্ডগোল তৈরি হবে। গণঅভ্যুত্থানের সময় সাদিক কায়েক সালমান পরিচয়ে কাজ করতেন, এটাই চিরন্তন সত্য। কিন্তু এখন যদি বেশি ক্রেডিটের জন্য বলা হয় গণঅভ্যুত্থানের সময় সাদিক কায়েম পরিচয়েই সাদিক কায়েম কাজ করতেন, তা হবে অসত্য! ঠিক ক্রেডিটের বিষয়গুলো এই রকম। যার যতটুকু অবদান ততটুকুর বেশি দাবি করার সুযোগ নেই।’

রাশেদের ভাষ্য—মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘২ তারিখ রাতেই অনলাইনে এক দফা ঘোষণার আমরা সবাই বিপক্ষে ছিলাম। ৩ তারিখ জনসমক্ষে শহিদ মিনারে ঘোষণা দেওয়ার পক্ষে ছিলাম। কারণ, রাতের ঘোষণার চাপ একটি নির্দিষ্ট কোয়ার্টার থেকে এসেছিল। এই কোয়ার্টার বলতে মাহফুজ আলম ক্যান্টমেন্টকে বুঝিয়েছেন, যা ইতোপূর্বে নাহিদ ইসলামও বলেছিলেন।’

‘দেখেন, আমি যদি বলি সেনাবাহিনীর স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরই নাহিদ ইসলাম ১ দফার ঘোষণা করেছেন! নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা, ২ আগস্ট সেনাবাহিনী একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় যে, ৩ আগস্ট সব সিনিয়র অফিসারদের নিয়ে মিটিং, এরপর ৩ আগস্ট দুপুর বেলা সেনাপ্রধান বলেন যে, সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালাবে না? এটা কি মিথ্যা? সেনাবাহিনী এই বক্তব্য কি জনতাকে সাহস জোগায়নি? মূলত ১ আগস্ট সেনাবাহিনী সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা জনগণের পক্ষে অবস্থান করবে।’

‘যে কারণে বলা যায়, কার্যত ১ আগস্টেই শেখ হাসিনার পতন হয়ে যায় এবং সেই সিগনাল শেখ হাসিনাসহ মোটামুটি সব এমপি-মন্ত্রীরা পেয়ে যান। যে কারণে ওই সময় থেকেই সব পালানো শুরু করে। গণ-অভ্যুত্থানে ক্যান্টনমেন্টেরও অনেক ভূমিকা আছে। আমি রূপক অর্থে সেনাবাহিনীর ভূমিকা বা অবদান বোঝাতে গিয়ে এটি বলেছি যে, স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ ইসলাম ১ দফার ঘোষণা করেছিলেন! আশা করি বক্তব্য বুঝতে পেরেছেন। এখানে নাহিদ ইসলামেরও ভূমিকা আছে, সেনাবাহিনীরও ভূমিকা আছে।’

Manual7 Ad Code

সবশেষ গণঅধিকার পরিষদের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রশিবিরসহ সব ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও জনতার ভূমিকা আছে। ১ দফার ঘোষণার সিদ্ধান্ত, সম্মিলিত সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়। এখানে হয়তো কারও অবদান বেশি, কারও অবদান কম। কিন্তু চব্বিশের ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত হাসনাত ও সারজিস ডিসিশন বা পলিসি মেকিংয়ের মধ্যে ছিলেন না। সরকারের মন্ত্রিদের সঙ্গে বৈঠকে যাওয়ার কারণেই সন্দেহের জায়গা থেকে তাদের দূরে রাখা হয়। আব্দুল কাদেরের বক্তব্য সত্য কি মিথ্যা তা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের, রিফাত রশিদ, মাহিন সরকাররা বলুক….।’