আজ বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবলীগ নেতাকে আটক, থানা ঘিরে গ্রামবাসীর বিক্ষোভে ছেড়ে দিলো পুলিশ

editor
প্রকাশিত জুলাই ৪, ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ
যুবলীগ নেতাকে আটক, থানা ঘিরে গ্রামবাসীর বিক্ষোভে ছেড়ে দিলো পুলিশ

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual7 Ad Code

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় রিপন সরকার নামে যুবলীগের এক নেতাকে আটক করে থানায় নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিতে থানার সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান নেন প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী। পরে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর প্রতিনিধিদের আলোচনার পর রিপন সরকারকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ।

Manual7 Ad Code

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটক রিপন সরকার (৪০) উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর সরকারের ছেলে। তিনি পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি।

Manual5 Ad Code

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ভাঙ্গুড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল ইসলাম পাটুলিপাড়া গ্রাম থেকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার সন্দেহভাজন হিসেবে রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

তবে স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, টেবুনিয়া বাঘাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পাটুলিপাড়া গ্রামের একটি খাসজমি ও ছোট বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর সঙ্গে ইউনুস সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরোধ চলে আসছে। সরকারি জায়গা দখল করে ইউনুস সরকার সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। পরে গ্রামবাসী ঘরটি ভেঙে সেখানে পুনরায় মাছের বাজার বসান এবং স্থানটিকে ছোট বাজার ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যানার টাঙান। অন্যদিকে ইউনুস সরকার জায়গাটি নিজের দাবি করে রিপন সরকারসহ কয়েকজন গ্রামবাসীকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দেন।

Manual1 Ad Code

গ্রামবাসীর দাবি, ওই বিরোধে তাদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন রিপন সরকার। তাকে হয়রানি ও আন্দোলন থামাতেই পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ তাদের। তারা আরও দাবি করেন, ইউনুস সরকারের দায়ের করা অভিযোগের কারণেই রিপনকে আটক করা হয়েছে। রিপনকে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী ভাঙ্গুড়া থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাকে মুক্তির দাবি জানান। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থানা চত্বর থেকে বাইরে সরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমি যুবলীগের সভাপতিকে নিয়ে এসেছি। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা কি মব করতে চান? এই মুহূর্তে থানা এলাকা ছেড়ে চলে যান।” তিনি আরও বলেন “আমি আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল অনেকের সাথেই কথা বলেছি সে (রিপন) চলমান কমিটির সভাপতি।”

পরে বিক্ষোভকারীদের শীর্ষ পাঁচ জনকে নিয়ে ওসির কক্ষে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে রিপন সরকারকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রতিনিধিদল তাকে সঙ্গে নিয়ে থানা থেকে বের হয়ে গ্রামে ফিরে যান।

রিপন সরকারকে কেন আটক করা হয়েছিল এবং পরে কী বিবেচনায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নাশকতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ও গ্রামবাসীর বিক্ষোভ এবং দাবির কারণে তাকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন