কলকাতায় হোটেলে আগুন: স্ত্রী-সন্তানসহ কুষ্টিয়ার সাংবাদিক নিহত
কলকাতায় হোটেলে আগুন: স্ত্রী-সন্তানসহ কুষ্টিয়ার সাংবাদিক নিহত
editor
প্রকাশিত আগস্ট ২০, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
শরিফুল হক পপি, কুষ্টিয়া
ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফসানা সিমমিন (২৫), সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪) নিহত হয়েছেন। তাদের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Manual1 Ad Code
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে এ অগ্নিকাণ্ডের তাদের মৃত্যু হয়।
দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এবং কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
Manual6 Ad Code
দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার দিলীপ দত্তের সন্তান এবং শ্বশুর আকরাম আলীর বাড়ী শহরের থানাপাড়ায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে নিয়ে ভারতে যান দেবাশিস। সেখানে কলকাতার পাশাপাশি তাঁরা চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতেও গিয়েছিলেন।
ঘটনার দিন রাতে বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরেন তারা। বুধবারই দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। কিন্তু তার আগেই হোটেলের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিল চার চারটি তাজা প্রাণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেবাশীষ নিয়মিত তাদের এই ভ্রমণের হালনাগাদ তথ্য ও ছবি শেয়ার করছিলেন। মৃত্যুর কিছু সময় আগে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘টানা ১৩ দিন পর বেঙ্গালুরু বাই বাই…’।
বাবা দিলীপ দত্ত অশ্রুসজল চোখে বলেন, একজন বাবা হয়ে কীভাবে সন্তানের লাশ মেনে নেব?
দেবাশিস দত্তের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনেকেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের সহকর্মী হিসেবে দেবাশিস ছিলেন সবার কাছে পরিচিত ও প্রিয় মুখ।
Manual7 Ad Code
সাংবাদিক দেবাশিস দত্তের আকস্মিক ও অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
Manual2 Ad Code
কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেবাশিস অত্যন্ত মেধাবী, পেশাদার ও সাদা মনের মানুষ ছিলেন।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের রিপন গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে এভাবে হারানো হৃদয়বিদারক। তার এই নির্মম প্রস্থান কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।