সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ আকস্মিক সফরে মস্কো গেছেন। সেখানে তিনি রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও সিবিএসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাসও মস্কোতে একটি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণের খবর দিয়েছে।
সিএনএনের কাছে র্যাটক্লিফের সফর সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি মস্কোর উদ্দেশে যাত্রা করেন। তবে বৈঠকে কারা ছিলেন বা কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সিআইএও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
রাশিয়া সফরের আগে ইউক্রেনকে সাময়িকভাবে মস্কোসহ উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানান, সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। ইউক্রেনকে জানানো হয়েছিল, এ সময়ে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা রাশিয়া সফর করবেন।
Manual3 Ad Code
তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে র্যাটক্লিফের বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলে বুধবার সকালে জানান ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
সিআইএর পরিচালক হিসেবে এটাই র্যাটক্লিফের প্রথম রাশিয়া সফর। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে চলা আলোচনা থমকে যাওয়ার মধ্যেই তার এ সফরের খবর সামনে এলো।
ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বোয়িং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-৩ সামরিক পরিবহন বিমান মঙ্গলবার মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি ওয়াশিংটনের কাছে অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটি থেকে যাত্রা করে প্রথমে লাটভিয়ার রাজধানী রিগায় যায়। পরে সেখান থেকে মস্কোর উদ্দেশে উড়ে যায় এবং একই দিন রিগায় ফিরে আসে।
তাসকে ইউরোপীয় আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানিয়েছে, অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটি থেকে লাটভিয়া যাওয়ার পর বিমানটি রাশিয়ার সীমান্তের দিকে এগিয়ে যায় এবং মস্কোতে পৌঁছায়। এর আগে বিমানটি চার্লসটন বিমানবন্দরেও গিয়েছিল বলে ওই সূত্র জানায়।
লাটভিয়ার রিগার কাছে একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান অবতরণ করছে। বিমানটিতে সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
বিবিসি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরের দিকে সি-১৭ বিমানটিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে। মস্কোয় একটি কূটনৈতিক গাড়িবহর চলাচলের দৃশ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সফরটি কী উদ্দেশ্যে, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন বা মস্কো। তবে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মস্কোয় ব্রিটিশ সামরিক অ্যাটাশে হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জন ফোরম্যান বিবিসিকে বলেছেন, আকস্মিকভাবে এত উচ্চপর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তার মস্কো সফর সাধারণ ঘটনা নয়। তার মতে, এই সফরের একটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হতে পারে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ কিংবা রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা।
র্যাটক্লিফ এর আগে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্দিবিনিময় ও আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আলোচনায় ভূমিকা রেখেছেন। ২০২৪ সালের বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গের্শকোভিচ, সাবেক মার্কিন মেরিন পল হুইলান এবং রুশ-মার্কিন সাংবাদিক আলসু কুরমাশেভা মুক্তি পেয়েছিলেন। রুশ-মার্কিন নাগরিক ক্সেনিয়া কারেলিনার মুক্তির আলোচনাতেও র্যাটক্লিফ ভূমিকা রাখেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটন-মস্কোর সম্পর্ক ব্যাপকভাবে অবনতির মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কও তলানিতে ঠেকেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে র্যাটক্লিফকেই এখন পর্যন্ত রাশিয়া সফর করা সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন বলে মনে করা হচ্ছে।
Manual7 Ad Code
ট্রাম্প গত বছর আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে ওই বৈঠক ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কোনো বড় অগ্রগতি আনতে পারেনি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা কার্যত স্থবির হয়ে আছে।