হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ডুবে ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া
হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ডুবে ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া
editor
প্রকাশিত আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
মোঃ এ.কে.কাওসার, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল মসজিদের পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে আব্দুল মমিন তালহা সান (১৪) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত আব্দুল মমিন তালহা শুধু একজন মেধাবী ছাত্রই ছিল না, সে ছিল একজন পবিত্র কুরআনের হাফেজ (কোরআনের পাখি)। তার এই অকাল মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হবিগঞ্জ আহসানিয়া মিশনের সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায় এবং পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে স্কুল প্রাঙ্গণের মসজিদের পুকুরে এই বেদনাদায়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আব্দুল মমিন তালহা হবিগঞ্জ শহরের দক্ষিণ শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে আব্দুল মমিন তালহা তার কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে স্কুল মসজিদের পুকুরে যায়। সেখানে একপর্যায়ে সে গভীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পুকুরে দীর্ঘ সময় নিবিড় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ওই স্কুলছাত্রের নিথর মরদেহ পানি থেকে উদ্ধার করে।
কোরআনের পাখি তালহার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্কুল মসজিদের এই পুকুরটির ঘাট ও সিঁড়ি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সিঁড়িটি সংস্কার না করায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি প্রতিনিয়ত একটি মারাত্মক ঝুঁকি ও মরণফাঁদে পরিণত হয়েছিল।
বিদ্যালয়ের সচেতন অভিভাবক ও স্থানীয় মহলের দাবি, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো কোমলমতি প্রাণ এভাবে ঝরে না যায় এবং কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, সেজন্য অবিলম্বে পুকুরের ভাঙা সিঁড়ি সংস্কারসহ স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।