আজ রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএসএফের গুলিতে চুনারুঘাট সীমান্তে বাংলাদেশি তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু

editor
প্রকাশিত আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
বিএসএফের গুলিতে চুনারুঘাট সীমান্তে বাংলাদেশি তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু

Manual1 Ad Code
মোঃ এ.কে.কাওসার, হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সোহাগ মিয়া (২১) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সীমান্তের ভারতীয় অংশে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।নিহত সোহাগ মিয়া চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি একজন রাখাল ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিমটিবিল সীমান্ত এলাকায় হঠাৎ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। গুলির শব্দ থামার পর স্থানীয় লোকজন সীমান্ত এলাকায় গিয়ে এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দূর থেকে যুবকের পরনের পোশাক দেখে তাঁকে বাংলাদেশি বলে ধারণা করেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে খবর পেয়ে সোহাগের স্বজনেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাকে সোহাগ মিয়া হিসেবে শনাক্ত করেন।স্বজন ও স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সোহাগকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা আবদুল কাদির ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে বলেন, “আমার ভাতিজা কোনো অপরাধী বা চোরাকারবারি ছিল না। সে পেশায় রাখাল। দুপুরে সীমান্তে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়েছিল। কিন্তু বিএসএফ সদস্যরা তাকে গরু চোরাকারবারি সন্দেহে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে।”
ঘটনার পর বেলা দুইটা পর্যন্ত সোহাগের মরদেহ চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা ছিল। খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চুনারুঘাট থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হবিগঞ্জ-৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখা (Zero Line) থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে ভারতীয় অংশে ঘটেছে।
বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা গরু চোরাকারবারি শনাক্ত করে গুলি চালালে ওই ব্যক্তি নিহত হন।তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল ও সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ ও পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে বলেও সীমান্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে।