মাত্র তিন মাস আগে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসিয়েছিলেন সাবিনা খাতুনরা। টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতা সেই দলই এখন অবসরের দুয়ারে। নারী ফুটবল দলের সবাই ক্ষোভ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমের সামনে।
বর্তমানে বাংলাদেশের নারী ফুটবল একটি সংকটকালীন মুহূর্ত পার করছে। তাদের কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে মানসিক হয়রানি এবং উৎপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন সাবিনারা। যার কারণে তারা তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
ফুটবলারদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাদের প্রতি বাটলারের আচরণ অত্যন্ত অবমাননাকর ছিল। এমনকি তিনি তাদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করেছেন, এবং কিছু ক্ষেত্রে অযথা কটাক্ষও করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম অভিযোগ হলো, দুইবারের সাফ সেরা গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে উচ্চতা নিয়ে ‘অপমান’ করা, এবং টুপি পরে খেতে বসায় খেলোয়াড়দের দলের বাইরে ঠেলে দেওয়া। এসব অভিযোগ প্রকাশ করতে গিয়ে খেলোয়াড়রা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
Manual3 Ad Code
এই ঘটনা নতুন নয়, গত বছরের অক্টোবর মাসে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের মেয়েরা কোচ বাটলারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কথা প্রকাশ করেছিলেন। তবে সম্প্রতি, এই বিরোধ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
Manual8 Ad Code
গত সোমবার বাটলার ঢাকায় ফিরে মঙ্গলবার একটি টিম মিটিং ডাকলে খেলোয়াড়রা এতে অংশ নেননি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) কোচ বাটলার একটি জিম সেশন আয়োজন করলে, বাফুফে ক্যাম্পে থাকা ৩০ খেলোয়াড়ের মধ্যে মাত্র ১২ জন সেখানে অংশ নেন। এর পর, সন্ধ্যায় বাকি ১৮ জন খেলোয়াড় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একটি লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন।
Manual4 Ad Code
এছাড়া, বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বাফুফে সভাপতির কাছে একটি চিঠি দিয়েছিলেন দলের খেলোয়াড়রা। চিঠির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বাফুফে ইমার্জেন্সি কমিটির একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
Manual6 Ad Code
সভা শেষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে মেয়েদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করার জন্য ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি মো. ইমরুল হাসান। ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন ফাহাদ করিম, এবং অন্যান্য সদস্যরা হলেন মো. ছাইদ হাছান কানন, সাখাওয়াত হোসেন ভুঁঞা, মো. হুমায়ুন খালিদ, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, এবং কাজী নুসরাত এদিব লুনা।