আজ বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিখিত-ভাইভায় উত্তীর্ণ, ঠিকানা যাচাইয়ে আটকে গেল মিশনের শিক্ষক নিয়োগ

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১, ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ণ
লিখিত-ভাইভায় উত্তীর্ণ, ঠিকানা যাচাইয়ে আটকে গেল মিশনের শিক্ষক নিয়োগ

Manual2 Ad Code
স্বপন কুমার সিং, নিজস্ব প্রতিবেদক :
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র হাতে পাননি ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। স্থায়ী ঠিকানা যাচাইয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তার নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রয়েছে।
৩১ বছর বয়সী মিশন ঝিনাইদহ শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাগান এলাকায় বসবাস করেন। তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিবারের দাবি, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন।
মিশনের মা ময়না আচার্য জানান, প্রায় ৪৫ বছর আগে তিনি কলাবাগান এলাকায় বসবাস শুরু করেন। স্বামী সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ করে দুই সন্তানকে বড় করেছেন। অভাবের সংসারেও ছোট ছেলে মিশনের পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।
পরিবারটির দাবি, তারা ওই এলাকার ভোটার এবং নিয়মিতভাবে সেখানে বসবাস করলেও নিজেদের নামে কোনো বাড়ি বা জমি নেই। মিশনের মা, নানি সুবর্ণা বিশ্বাসকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি সেমিপাকা বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন।
মিশনের বড় ভাই শৈলেন আচার্য জানান, নিয়োগের বিভিন্ন ধাপ শেষ হওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাদের বাসায় আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র দেওয়া হলেও চূড়ান্ত ফলাফলে মিশনের রোল নম্বর পাওয়া যায়নি।
মিশন আচার্যের ভাষ্য, শিক্ষক নিয়োগের আবেদনপত্রে তিনি বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কলাবাগানের ঠিকানাই উল্লেখ করেছেন। ওই ঠিকানায় নিয়মিত সরকারি ও বেসরকারি চিঠিপত্রও পান তিনি। তাই ঠিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে, তা তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।
এর আগে কয়েকটি সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর যাচাই পর্যায়ে জটিলতার মুখে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মিশন।
শিক্ষাজীবনে মিশন ঝিনাইদহ কাঞ্চননগর স্কুল থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমজাদ হোসেন আলাপকালে  সংবাদ মাধ্যমে কে বলছেন   মিশনকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়নি। ঠিকানা যাচাইয়ের সময় তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য পাওয়ায় তার নিয়োগ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, মিশনের নামে জমির দলিলসহ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।