আজ বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের নির্দেশ ট্রাম্পের

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ণ
গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের নির্দেশ ট্রাম্পের

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual3 Ad Code

অর্থ, উপহার ও বিভিন্ন সুবিধার বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একসময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে গিলফয়েলের বাগ্‌দান হয়েছিল। গত সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, গিলফয়েলকে বরখাস্ত করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। পরদিন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তিনি ভালো কাজ করছিলেন, কিন্তু আমরা যা পড়ছিলাম, তা আমাদের পছন্দ হয়নি।’

গত মাস থেকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে গিলফয়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এসব প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, গ্রিস সরকারকে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খাটানোর হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় মার্কিন আইনপ্রণেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারাইয়া মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের দলের জন্য অসাধারণ সম্পদ ছিলেন। আমরা তার ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করি।’

তবে গিলফয়েল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা অটুট থাকার কথা জানান।

গিলফয়েল লেখেন, ‘রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার দায়িত্ব হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমেরিকা ফার্স্ট আন্দোলন এবং আমার প্রিয় দেশের প্রতি আমার অঙ্গীকার কখনো শেষ হবে না। এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমার নাম, সুনাম ও সততা রক্ষায় আমি জোরালোভাবে লড়াই করব।’

Manual4 Ad Code

গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েল

অর্থের বিনিময়ে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে গ্রিসের একটি জ্বালানি কোম্পানির লবিস্টের সঙ্গে গিলফয়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ওই কোম্পানির পক্ষে তার প্রচারণার বিষয়টি উঠে আসে। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের ছেলে এরিকের সম্মানে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত একটি নৈশভোজে আমন্ত্রণ পাওয়ার চেষ্টা করার সময় ধনী গ্রিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে বড়াই করেছিলেন গিলফয়েল। এ বিষয়ে একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Manual6 Ad Code

মার্কিন ব্যবসায়ী এরিক ডিটার্স ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, সাবেক প্রসিকিউটর গিলফয়েল অর্থের বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে গিলফয়েল তাঁর কাছে ক্রেডিট কার্ডের এক লাখ ডলারের বিল পরিশোধের অনুরোধ করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল গত সপ্তাহে জানায়, এথেন্সে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া অনুপযুক্ত আচরণসংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তদারকি বিভাগ।

গিলফয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে গ্রিস সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও এথেন্সে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

গ্রিসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো মিত্র গ্রিস। পূর্ব ভূমধ্যসাগরের নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেয়। পাশাপাশি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি সামুদ্রিক অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে গ্রিস।

Manual3 Ad Code

গত সপ্তাহে এথেন্স সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়ের নতুন উদ্যোগ শুরু হচ্ছে।

গ্রিসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন গিলফয়েল। ভোগ গ্রিস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে জায়গা পাওয়ার পাশাপাশি দেশটির তারকাদের সঙ্গে বিভিন্ন পার্টিতেও অংশ নেন তিনি।

দায়িত্ব পালনকালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চুক্তির পক্ষে সক্রিয় ছিলেন গিলফয়েল। এসব চুক্তির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি এবং এক্সনমবিলসহ বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসংক্রান্ত চুক্তি ছিল।

তবে তাঁর কিছু বক্তব্য দুই দেশের বাইরেও কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি করে। গত বছরের নভেম্বরে গ্রিসে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে গিলফয়েল বলেছিলেন, চীনের উচিত পিরেয়ুস বন্দরে থাকা তাদের ৬৭ শতাংশ মালিকানা বিক্রি করে দেওয়া। বন্দরটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

গিলফয়েলের বক্তব্যের জবাবে গ্রিসে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ফাং চিউ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সেকেলে ও ক্ষতিকর মানসিকতা’ এবং ‘আধিপত্যবাদী মনোভাব’ পোষণের অভিযোগ তোলেন।

গ্রিসের বিরোধী দল পাসোকের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র দিমিত্রিস মানৎসোস বলেন, গিলফয়েলকে বরখাস্ত করার ঘটনায় কিছু প্রশ্ন উঠেছে, যেগুলোর উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গ্রিক কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা চাইবেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মানৎসোস বলেন, গ্রিস কি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইবে, নাকি দেশটি বাইরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ‘নাট্যমঞ্চ’ হয়ে থাকলেও তা মেনে নেবে?

সূত্র: রয়টার্স, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল