আজ রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতার পূজামণ্ডপে অল্পের জন্য বাঁচলেন বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ণ
কলকাতার পূজামণ্ডপে অল্পের জন্য বাঁচলেন বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual5 Ad Code

উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ। দুর্ঘটনার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে তিনি পূজামণ্ডপের বাইরে পৌঁছান। তবে ভেতরে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় আয়োজকেরা তাকে মণ্ডপে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানান। তাদের অনুরোধ মেনে বাইরে অপেক্ষা করায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দুর্গাপূজার সপ্তমীর উৎসব চলাকালে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পূজামণ্ডপে প্রতিমা দর্শন ও পূজা দিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। এ সময় ভারী বৃষ্টির কারণে প্রবেশ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীরা আরও দুর্ভোগে পড়েন। একপর্যায়ে প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, সপ্তমীতে চোরবাগানের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ। আমন্ত্রণ অনুযায়ী তিনি সেখানে পৌঁছালে আয়োজকেরা তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান এবং পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

আয়োজকদের অনুরোধে খালেদ মণ্ডপের বাইরেই অপেক্ষা করতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পদপিষ্ট হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আয়োজকদের সময়োপযোগী সতর্কতার কারণেই মো. খালেদ সম্ভাব্য প্রাণঘাতী বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর পূজার আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার বলেন, ‘আয়োজকেরা আমাকে বাঁচিয়েছেন। নইলে আমিও বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারতাম।’

তিনি জানান, ওই সময়ই তার পূজামণ্ডপের ভেতরে প্রবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু আয়োজকেরা বাধা দেওয়ায় তিনি আর ভেতরে যাননি।

ভয়াবহ সেই মুহূর্তের কথা মনে করে মো. খালেদ বলেন, ‘ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখার পর আমি বুঝতে পেরেছি, ওই সময় মণ্ডপের ভেতরে থাকলে আমিও দুর্ঘটনার শিকার হতে পারতাম।’

Manual5 Ad Code

এদিকে, চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় রোববার সকালে আনুষ্ঠানিক শোক জানিয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন।

Manual6 Ad Code

কয়েকজন দর্শনার্থী ঘটনার বর্ণনায় জানান, হঠাৎ করেই সারির পেছন থেকে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হলে সামনের দিকে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষেরা ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান। এরপরই হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং একের পর এক মানুষ পদপিষ্ট হন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে আহতদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দারা পূজামণ্ডপের পেছনের একটি দরজা ভেঙে খুলে দেন।

Manual5 Ad Code

পরে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।