আমি তো তখন গণফোরামের সাথে, আওয়ামী লীগের সাথে না: সুলতান মনসুর
আমি তো তখন গণফোরামের সাথে, আওয়ামী লীগের সাথে না: সুলতান মনসুর
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ণ
Manual2 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে অভিযানের সময় গুলিতে মকবুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়।
সাবেক সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং সাবেক এমপি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহকে আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপিকর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রোববার এ আদেশ দেন।
শুনানিতে সুলতান মনসুর বলেন, যে সময়ের ঘটনা নিয়ে এই মামলা, তিনি তখন গণফোরামের রাজনীতি করেন, আওয়ামী লীগের না। তিনি কোনো অপরাধ ‘করেননি’।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন এদিন সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহকে আদালতে হাজির করে ২০২২ সালের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
Manual1 Ad Code
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন শুনানিতে বলেন, “ছাত্রলীগাররাই হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট করেছে। গত ১৭ বছর সুলতান মনসুর ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। আওয়ামী লীগ কখনো আওয়ামী লীগকে ছেড়ে যায় না। দল থেকে সরে যায় না। আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর প্রার্থনা করছি।”
আদালতে মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহ
অন্যদিকে সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনসহ কয়েকজন তাদের গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।
Manual4 Ad Code
আদালতের অনুমতি নিয়ে সুলতান মনসুর শুনানিতে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় আমি সপরিবারে দেশের বাইরে ছিলাম। কোনো অপরাধ করলে আমি দেশে ফিরে আসতাম না।
বিচারকের কাছে আইনগত সহায়তা চেয়ে তিনি বলেন, “এ মামলার ঘটনা ২০২২ সালের। আমি তো তখন গণফোরামের সাথে ছিলাম, আওয়ামী লীগের সাথে না।”
শুনানি শেষে বিচারক সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহকে বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান জানান।
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ একসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর দলের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।
পরে তিনি কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় তাকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়।
২০২৩ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে তা আর হয়নি।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালান। ভাঙচুর চালানো হয় বিএনপি কার্যালয়ে। কার্যালয়ের পাশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির আন্দোলন ‘নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে’ যুক্ত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন মাহফুজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে সুলতান মনসুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই তাকে যুবদল নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
Manual5 Ad Code
বিএনপিকর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা আরেক মামলায় গত ১৪ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
Manual1 Ad Code
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকার গুলশান-২ এলাকা থেকে মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনিও কারাগারে রয়েছেন।