আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশিষ্ট আইনজীবী ব‍্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী প্রবাসী বাংলাদেশিদের তালিকায়

editor
প্রকাশিত মার্চ ৮, ২০২৫, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বিশিষ্ট আইনজীবী ব‍্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী প্রবাসী বাংলাদেশিদের তালিকায়

Manual8 Ad Code
শ‌হিদুল ইসলাম,
Manual3 Ad Code

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন  ব‍্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনকে বিশ্বের ১০০ জন সবচেয়ে প্রভাবশালী বাংলাদেশি প্রবাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ম‍্যাগাজিনটির ২০২৪ সালের ডিসেম্বর সংখ্যার প্রচ্ছদে বিভিন্ন পেশায় ও কর্মকাণ্ডে সফল একশত জনের ছবি, তালিকা এবং প্রত‍্যেকের উপর একটি করে সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখা হয়েছে ।

‘‘ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন প্রবাসীদের জন্য এক আলোকবর্তিকা’’

Manual1 Ad Code

ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন যুক্তরাজ্যের আইনক্ষেত্রে একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, বিশেষ করে ইমিগ্রেশন, মানবাধিকার, সিভিল এবং পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে। ‘‘এমএইচ ব্যারিস্টার্স’’ বা ‘‘চেম্বার্স অব এম এম হোসেন’’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি প্রবাসী সম্প্রদায়, বিশেষত বাংলাদেশি অভিবাসীদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মাধ্যমে রয়েছে ৫০,০০০ এরও বেশি মানুষের জীবন বদলিয়ে দেয়া সফল মাইগ্রেশন কেইস। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ক্লায়েন্টদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তিনি সুলভ আইনি সেবা প্রদানের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করেছেন।

মনোয়ারের প্রভাব কেবল আদালতের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি অভিবাসীদের তাদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০২ সালে তিনি বাংলা টিভিতে “ইউর রাইটস” শীর্ষক সরাসরি আইনি পরামর্শ প্রদানের অনুষ্ঠান শুরু করেন, যা পরবর্তীতে ION টিভিতে তাঁর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘‘ল’ উইথ ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন’’ এর ভিত্তি স্থাপন করে। এই উদ্যোগগুলো অভিবাসন, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং ন‍্যাশনালিটি  আইনের জটিলতাগুলো মোকাবিলা করতে অগণিত মানুষকে ক্ষমতায়িত করেছে, এবং যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাঁদের জন্য আইনগত জ্ঞান সহজলভ্য করেছে।

Manual6 Ad Code

আইন পেশার পাশাপাশি, মনোয়ার হোসেন ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে তিনি বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যুগুলো সমাধানে তাঁর ভূমিকার প্রতিফলন ঘটায়। এছাড়াও, তিনি চ্যানেল আই এবং এটিএন বাংলার মতো প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতির মাধ্যমে প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের উপর প্রভাব ফেলা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে জনসাধারণের সাথে আলোচনা করে সক্রিয়ভাবে অবদান রেখে চলেছেন।

Manual6 Ad Code

দেখা গেছে বহু ক্লায়েন্টরা প্রতিনিয়ত ব্যারিস্টার হোসেনের প্রশংসা করেন, বিশেষ করে জটিল অভিবাসন মামলাগুলো পরিচালনায় তাঁর দক্ষতার জন্য। ফ‍্যামিলী রিইউনিয়ন এবং স্থায়ী বসবাসের বিষয়গুলোতে তাঁর বিশেষজ্ঞ দক্ষতা অত্যন্ত প্রশংসিত। তাঁর অসাধারণ যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব এবং সহানুভূতির কথা উল্লেখ করে ক্লায়েন্টরা বিচারিক পর্যালোচনা, আপিল এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার আবেদন পরিচালনায় তাঁর দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর প্রাক সক্রিয় যোগাযোগ পদ্ধতি এবং ক্লায়েন্ট সেবায় নিষ্ঠা তাঁকে আইনজীবী সম্প্রদায়ের একজন বিশ্বস্ত অ্যাডভোকেট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ইংল্যান্ডে একজন প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার হিসেবে অসাধারণ সাফল্যের বাইরে মনোয়ার হোসেন ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের তত্ত্বাবধায়ক (Pupil Supervisor)। নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের ইংল্যান্ডে প্র্যাকটিসিং ব‍্যারিস্টার হিসেবে প্রশিক্ষণ ও গড়ে তোলার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার নিশ্চিত করে যে, তাঁর দক্ষতা যুক্তরাজ্যের আইন পেশার ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে থাকবে।

বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন নেতৃত্বের ভূমিকায় মনোয়ারের অবদান প্রশংসনীয়। ওয়ার্ল্ডওয়াইড চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশনস এবং চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রবাসীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ করেছেন। বিশ্বব্যাপী একজন সম্মানিত পেশাজীবী হিসেবে তাঁর স্বীকৃতি অসংখ্য পুরস্কারের মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালে প্রাপ্ত ‘‘হু’জ হু বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’’ এবং ২০২২ সালে দুবাইয়ে প্রাপ্ত ‘‘বেস্ট এনআরবি প্রফেশনাল অব দ্য ইয়ার’’ অ্যাওয়ার্ড ইত্যাদি ।

‘‘ইনডমিটেবল মনোয়ার হোসেন’’ (অদম্য এক মনোয়ার হোসেন) গ্রন্থের প্রকাশ তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধার সাক্ষ্য বহন করে। এই গ্রন্থে অনেক রাজনৈতিক নেতা এবং শিক্ষাবিদদের লেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে তাঁরা বাংলাদেশ এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর অবদানকে প্রশংসা করেছেন।

তাঁর মানবিক কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্য; ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন ফাউন্ডেশন কোভিড-১৯ মহামারির সময় চট্টগ্রামবাসীদের  সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এটি সমাজের প্রতি তাঁর চলমান দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।

যে সময়ে আইনগত চ্যালেঞ্জগুলো ভীতিকর হতে পারে, সেই সময়ে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন ন্যায়বিচারের পক্ষে একজন আলোকবর্তিকা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন এবং যাঁদের প্রয়োজন তাঁদের জন্য অপরিসীম সহায়তা প্রদান করছেন। আইন পেশা এবং তিনি যে কমিউনিটিগুলোকে সেবা দেন তাদের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে, এবং এটি তাঁকে আইন এবং মানবাধিকার প্রচারণার ক্ষেত্রে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।