বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব
বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব
editor
প্রকাশিত মে ৫, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
দেশের জ্বালানি খাতে অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) এই প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৫ মে) নিশ্চিত করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, পিডিবির পক্ষ থেকে প্রস্তাব এলেও বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব এখনো জমা পড়েনি। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে আরও কিছু সময় লাগবে। প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কারিগরি কমিটিতে পাঠানো হবে এবং এরপর গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আসন্ন ঈদের ছুটির কারণে আগামী এক মাসের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা নেই।
Manual2 Ad Code
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় পাইকারিতে ৫ শতাংশ দাম বাড়ায় প্রতি ইউনিটের মূল্য দাঁড়িয়েছিল ৭.০৪ টাকা। এখন যদি নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়ে, তবে প্রতি ইউনিটে পাইকারি মূল্য ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
পিডিবির প্রস্তাবে দাম বাড়ানোর পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
Manual5 Ad Code
ইরান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনীতি: বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই বছর দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। যুদ্ধের কারণে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
Manual8 Ad Code
বিশাল ঘাটতি ও ভর্তুকির চাপ: মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি অব্যাহত থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য আর্থিক ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া মূল্যে এলএনজি, তেল ও কয়লা কেনার ফলে এই ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইএমএফের সুপারিশ: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিদ্যুৎ খাতের দক্ষতা বাড়ানো এবং ভর্তুকি কমিয়ে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে। সরকার মনে করছে, মূল্য না বাড়ালে এই বিশাল ভর্তুকির চাপ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পাইকারি দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়েও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসবে। তবে পিডিবির প্রস্তাবে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী বা ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য দাম না বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে আবাসিক ক্ষেত্রে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্যও নতুন ট্যারিফ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
Manual6 Ad Code
মন্ত্রণালয়ের যুক্তি হচ্ছে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শ্রীলঙ্কা বা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোও দাম সমন্বয় করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ভর্তুকির বোঝা কমাতে এবং সরবরাহ সচল রাখতে এই মূল্য বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গণশুনানি ও বিইআরসির পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের পরেই জানা যাবে।সুএ: ইত্তেফাক