আজ মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা”

editor
প্রকাশিত জুলাই ২১, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা”

Manual4 Ad Code
স্বপন কুমার সিং, নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সহজেই পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারি হাসপাতালগুলোকে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হাসপাতাল পরিচালক এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক বিশেষ পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান অবস্থা, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। গত কয়েক মাসে স্বাস্থ্যসেবা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জনের বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।
সভায় উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
 এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, জনগণের চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য যেন অযথা জেলা বা রাজধানীমুখী যেন  যেতে না হয়।
 উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি হাসপাতালগুলোকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সেখানেই পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন।
সভায় কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে চালু থাকা ডায়ালাইসিস ইউনিটগুলোকে পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করে ৫০ শয্যার আধুনিক ডায়ালাইসিস সেন্টারে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের উপজেলা পর্যায়েও ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এছাড়া দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হাসপাতাল সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, জনবল বৃদ্ধি এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজনের বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং চিকিৎসা গ্রহণে ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।