আজ মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের গোপন সফর আফগানিস্তানে

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ণ
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের গোপন সফর আফগানিস্তানে

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual6 Ad Code

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ২০২৫ সালের মধ্য থেকে আফগানিস্তানে কয়েকটি অপ্রকাশিত সফর করেছেন, যা নয়াদিল্লির তালেবান প্রশাসনের প্রতি পদ্ধতিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। এই গোপন যোগাযোগগুলোর উদ্দেশ্য হলো কাবুলের সঙ্গে সাধারণ বোঝাপড়া স্থাপন করা, মূলত পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের প্রভাবকে কমিয়ে আনা লক্ষ্য।

এই গোপন সফর দক্ষিণ এশিয়ার জটিল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে বদলে দেয়ার চেষ্টা, যেখানে পাকিস্তান-তালেবান সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

অজিত ডোভালের এই সফরসমূহ ভারতের পূর্বের সংযমী মনোভাবের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ২০২১ সালের তালেবান দখলের পর তৈরি হয়। নয়াদিল্লি অতীতেও তালেবানকে পাকিস্তান-সমর্থিত হিসেবে সন্দেহের চোখে দেখেছে, কিন্তু সাম্প্রতিক যোগাযোগ কার্যকর সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, এই ‘অপ্রকাশিত’ সফরগুলো মূলত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের দিকে মনোনিবেশ করছে, যাতে ভারতের লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়। যাতে তালেবানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দিয়েও তাদের স্বার্থ রক্ষা করার প্রক্রিয়া।

এ সকল সফর ও যোগাযোগের ফলে পাকিস্তান-তালেবান সম্পর্কের অবনতি দেখা দিয়েছে। ডুরান্ড লাইন বরাবর সীমান্ত সংঘাত, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (TTP) সঙ্গে, উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তান তালেবানকে আক্রমণাত্মক কার্যক্রমের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করছে, আর কাবুল সীমান্ত বেড়া ও পাকিস্তানের চাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। তাদের মধ্যকার এ ফাটল ভারতের জন্য সুযোগ তৈরি করছে যাতে বিকল্প অংশীদার হিসেবে ভারত নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে এবং আফগানিস্তানে পাকিস্তানের কৌশলগত প্রভাব কমাতে পারে।

Manual5 Ad Code

নয়াদিল্লি এই যোগাযোগ গোপনে পরিচালনা করছে যাতে চীন বিরক্ত না হয়, তাদের (চীনের) আফগানিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব রয়েছে। তালেবানের কাছে চীনের আগ্রহ হলো তাদের স্বার্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভারতের পদক্ষেপ চীনের উদ্বেগ মেটানোর চেষ্টা করছে, পাশাপাশি নিজের লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার দিকে। ভারত আফগান করিডোরের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার বাজারে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে।

কাবুলে একটি প্রযুক্তি মিশন পুনরায় খুলেছে ভারত, যা পরে ২০২৫ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে উন্নীত হয়, যা সম্পর্ক বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তার উচ্চ পর্যায়ের সফর, যেমন তালেবানের কর্মকর্তাদের নয়াদিল্লি সফর, বাণিজ্য, সংযোগ এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

এই অজিত দোভাল-নেতৃত্বাধীন গোপন যোগাযোগের কৌশলগত যুক্তি হলো পাকিস্তান-সমর্থিত গোষ্ঠীর থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা। দীর্ঘদিন ধরে আফগান ভূখণ্ড থেকে ভারতবিরোধী কার্যকলাপে উদ্বিগ্ন তারা। তালেবানের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে, নয়াদিল্লি চায় আফগান ভূখণ্ড ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে না এমন নিশ্চয়তা পেতে, যা তাদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করবে।

অাঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন এই যোগাযোগগুলো ভারতের সাথে পাকিস্তানের উত্তেজনার বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০২৫ সালে প্ররোচিত উত্তেজনার জবাবে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া কাবুলের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ বদলেছে। তালেবান, যারা প্রচলিত পৃষ্ঠপোষক ছাড়াও বিকল্প অংশীদার খুঁজছে, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তার জন্য ভারতীয় প্রস্তাব গ্রহণ করতে আগ্রহী মনে হচ্ছে।

অর্থনৈতিক দিকও এই যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারতের পূর্ববর্তী অবকাঠামোতে বিনিয়োগ প্রভাব রাখছে। তালেবান এই সম্পদ পুনরুজ্জীবিত করতে চায়, যা ভারতের লক্ষ্য—চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার বাণিজ্য পাকিস্তানের রুট এড়িয়ে চলতে সহায়ক হয়।

অগ্রগতির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও, চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তালেবান শাসনের মানবাধিকারের অবস্থা, বিশেষ করে মহিলাদের প্রতি ‘সংকীর্ণতা’, ভারতের যোগাযোগকে জটিল করে।
দোভালের এই সফরগুলো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা স্থাপত্যে পরিকল্পিত পুনর্বিন্যাসকে ইঙ্গিত করে। পাকিস্তানের প্রভাব হ্রাস পাওয়ায়, ভারতের গোপন কূটনীতি অবশ্যম্ভাবী আঞ্চলিকজোটগত পরিবর্তন করতে পারে।

যদিও এই যোগাযোগগুলো আনুষ্ঠানিক নয়, তবে সম্পর্কে তা প্রভাব ফেলতে পারে যদিও সফলতা নির্ভর করে পারস্পরিক বিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদি সংলাপের উপর।

Manual6 Ad Code

২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে অজিত দোভালের আফগানিস্তান সফর ভারতীয় কৌশলের একটি সক্রিয় অংশ, যা পাকিস্তানের প্রভাবের বিপরীতে তালেবানের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ইঙ্গিত দেয়। এই গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও কৌশলগত পরিস্থিতির পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে।

 

সূত্র: টাইমস অফ ইলামাবাদ , ইন্টলিজেন্স অনলাইন

 

Manual1 Ad Code