আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। তবে অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত নয় দলটির। বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট বয়কটের কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এরই প্রেক্ষিতে আইসিসি টাইগারদের সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর পাকিস্তান দ্বিচারিতার অভিযোগ এনে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিলে সংকট ঘনীভূত হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে এ বিষয়ে আগামী শুক্রবার অথবা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড।
তবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো পাকিস্তানের জন্য বেশ কিছু কারণে কঠিন, বলতে গেলে প্রায় অসম্ভব। কেননা বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে বেশ কিছু ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারে পাকিস্তান
Manual2 Ad Code
টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ চুক্তি লঙ্ঘন
আইসিসির প্রতিটি পূর্ণ সদস্য দেশ বড় কোনো টুর্নামেন্টের অনেক আগেই একটি আইনি চুক্তি—টুর্নামেন্ট পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট (টিপিএ)স্বাক্ষর করে। একেবারে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালে পাকিস্তান সরাসরি এই চুক্তি ভঙ্গ করবে।
Manual7 Ad Code
আইসিসি ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন হলে পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব অংশ স্থগিত করা হবে। এই অঙ্ক প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। নড়বড়ে অর্থনীতির মধ্যে থাকা পিসিবির জন্য আইসিসির মোট রাজস্ব পুলের প্রায় ৬ শতাংশ হারানো মানে বড়সড় আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়া।
আইসিসির নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’-এর ক্ষেত্রে আইসিসির শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। যদি এই বয়কটকে পুরোপুরি সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হয়, আইসিসি একে খেলাকে ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা বলে বিবেচনা করতে পারে।
এতে করে এশিয়া কাপ থেকে বাদ পড়তে পারে পাকিস্তান। আইসিসির অবস্থান অনেক সময়ই এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) অনুসরণ করে। এমনকি পিসিবি চেয়ারম্যান নিজেই এসিসির প্রধান হলেও ভবিষ্যৎ এশিয়া কাপগুলোতে পাকিস্তানের জায়গা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
পিএসএলে বিদেশি খেলোয়াড় সংকট
পাকিস্তানের ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পিএসএল। পাকিস্তান যদি কোনো আইসিসি ইভেন্ট বয়কট করে, তাহলে আইসিসি ও অন্যান্য বোর্ড (যেমন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বা ইসিবি) পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তাদের খেলোয়াড়দের পিএসএলে খেলতে এনওসি দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে।