নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি গ্রেপ্তার
নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি গ্রেপ্তার
editor
প্রকাশিত মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে গত বছরের এক গণবিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী ক্র্যাকডাউনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে তাকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে আটক করে পুলিশ।
গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া এক গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিক্ষোভকারী। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও এর মূলে ছিল দুর্নীতি ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন যে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
Manual8 Ad Code
তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই অস্থিরতা তদন্তে নিয়োজিত একটি প্যানেল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে ‘ফৌজদারি অবহেলা’র দায়ে অভিযুক্ত করে তাদের বিচারের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুংকেও গ্রেপ্তারের সুপারিশ করা হয়। তবে ওলি ইতিপূর্বে কমিশনের এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ‘অন্নপূর্ণা পোস্ট’ দৈনিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, এটি মূলত তার বিরুদ্ধে ‘চরিত্রহনন এবং ঘৃণ্য রাজনীতি’র বহিঃপ্রকাশ। এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক র্যাপার বালেন শাহ শপথ গ্রহণ করেছেন।
নেপালের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, যিনি নিজেও ওই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন, ওলির গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং এটি কোনো প্রতিশোধের বিষয় নয় বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শুরু মাত্র।
Manual4 Ad Code
নেপালের জেন-জি বিক্ষোভ।
Manual8 Ad Code
বালেন শাহর নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র একদিন পরই এই উচ্চপর্যায়ের গ্রেপ্তারি অভিযান হিমালয় কন্যা নেপালের রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন প্রশাসন জনগণের কাছে নিজেদের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রমাণ দিতে চাইছে।
বর্তমানে কাঠমান্ডুসহ নেপালের প্রধান শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে ওলির সমর্থকরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। গত সেপ্টেম্বরের সেই উত্তাল দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল।
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন সরকার পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে পেশিশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তা দমনের চেষ্টা করেছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল অনেকগুলো মূল্যবান প্রাণহানি। এখন আইনি প্রক্রিয়ায় এই ঘটনার কতটা সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে নেপালের সাধারণ মানুষ।