ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অস্থায়ী চুক্তিতে কী আছে, ফাঁস করল ইসরায়েলি গণমাধ্যম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অস্থায়ী চুক্তিতে কী আছে, ফাঁস করল ইসরায়েলি গণমাধ্যম
editor
প্রকাশিত জুন ১৭, ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual6 Ad Code
দীর্ঘ বৈরিতার পর স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ৬০ দিন মেয়াদি সমঝোতা স্মারকের গোপন শর্তাবলি ফাঁস হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এই চুক্তির ১২টি ধারা বা শর্ত প্রকাশ করেছে।
Manual3 Ad Code
ফাঁস হওয়া তথ্যানুযায়ী, চুক্তির আওতায় এরই মধ্যে ইরান কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তুলে নিয়েছে তাদের নৌ-অবরোধ।
সমঝোতা স্মারকের শর্তানুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্ররা লেবাননসহ বিশ্বের সব প্রান্তে একে অপরের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের বৈরী ও শত্রুতামূলক আচরণ বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। বিপরীতে, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চল থেকে সৈন্য প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
Manual1 Ad Code
চুক্তির উল্লেখযোগ্য একটি দিক হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা। শর্ত অনুযায়ী, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে ফেলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হয়েছে। আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচিতে বর্তমান পরিস্থিতি বা ‘স্ট্যাটাস কু’ বজায় রাখবে তেহরান। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল আটকে রাখা ইরানি অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেবে। এছাড়া স্থায়ী সমাধান হিসেবে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও বড় ছাড়ের উল্লেখ রয়েছে এই সমঝোতায়। আলোচনার চলাকালীন তেহরান যেন তেল বিক্রি করতে পারে, সে লক্ষ্যে ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে ইরানকে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখবে। এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর উপস্থিতিতে নৌ-চলাচলের নিয়মকানুন ঠিক করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনার পথ রাখা হয়েছে। আগামী ৬০ দিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ ও অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছে ইরান।
ফাঁস হওয়া তথ্যে আরও জানা যায়, এই সমঝোতা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না এবং এই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শক্তি আর বৃদ্ধি করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি হওয়া সাপেক্ষেই কেবল পূর্ণ সামরিক প্রত্যাহার ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মুক্তির বিষয়টি কার্যকর হবে। যদিও ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই শর্তাবলি প্রকাশ করেনি, তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যম সূত্র উদ্ধৃত করে এই বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে এনেছে।