মোনাজাতে যুদ্ধ বন্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
মোনাজাতে যুদ্ধ বন্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
editor
প্রকাশিত মার্চ ২১, ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আজ সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত শেষে আল্লাহর কাছে গুনাহ থেকে মাফ চেয়ে দেশ, জাতি ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়েছে।
ঈদের জামাতে অংশ নিতে শনিবার (২১ মার্চ) ভোর থেকেই মুসল্লিরা বায়তুল মোকাররমে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৭টায় প্রথম জামাত শুরুর আগেই মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে শুরু হয় খুতবা। এরপর দেশ জাতি ও মুসলিম উম্মাহ কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাতে এক মাস সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মুসলিমরা যে তওবা করেছেন তার উপর আমল করার তৌফিক চাওয়া হয়। দেশকে হেফাজত ও নিসাব কায়েমের জন্য দোয়া করেন।
মুসলিম দেশগুলোতে যুদ্ধ বিশেষ করে ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের হামলার প্রসঙ্গ টেনে মোনাজাতে সারা বিশ্বে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি কামনা করা হয়।
মোনাজাতে মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে মুসলিমরা নির্যাতন-জুলুমের শিকার; তাদেরকে হেফাজত করার পাশাপাশি তাদের পাশে মুসলিম দেশগুলোকে দাঁড়ানো এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
Manual3 Ad Code
এ সময় মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্যের জন্য দোয়া করা হয়। পাশাপাশি, সব মানুষের সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।
Manual2 Ad Code
প্রথম জামাত শেষ হওয়ার আগেই বিপুল সংখ্যক মুসল্লি দ্বিতীয় জামাতের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। প্রথম জামাত শেষ হতেই তারা মসজিদে প্রবেশ করেন।
প্রথম জামাত শেষে আল্লাহর কাছে গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া ছাড়াও দেশ, জাতি ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
Manual1 Ad Code
মোনাজাতে রমজানের রোজা ও অন্যান্য এবাদত যেন আল্লাহ কবুল করেন সেজন্য আল্লাহর কাছে আর্তি জানানো হয়। মৃত আত্মীয়-স্বজনদের জন্য জান্নাত কামনা করা হয়। মুসল্লির অনেকেই চোখের জলে নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চান এবং বিশ্ববাসীর কল্যাণ কামনা করেন।
প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব জামাত হচ্ছে পর্যায়ক্রমে সকাল ৭টা, সকাল ৮টা, সকাল ৯টা, সকাল ১০টা ও সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে।
ঈদের প্রথম জামাতে বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান ইমামতি করেছেন। দ্বিতীয় জামাতে পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা জাকির হোসেন, চতুর্থ জামাতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং পঞ্চম তথা সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামতি করছেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকছেন।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।