আজ রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের যত অভিযোগ, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

editor
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের যত অভিযোগ, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual3 Ad Code

ড. ইউনূসের শাসনকালে তার সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধান লংঘনসহ গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয় তাহলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড।

এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত ড. ইউনূস। যেসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকাল পর্যালোচনা করলে তার বিরুদ্ধে যেসব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার মধ্যে রয়েছে—
সংবিধান লংঘন ও অবমাননা : বাংলাদেশের সংবিধান হলো দেশের সর্বোচ্চ আইন। বর্তমান সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-“৭৷ (১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।

(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।

বর্তমান সংবিধানে সংবিধান লংঘনের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান আছে। সংবিধানের ৭ক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে—
“৭ক। (১) কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায়—
(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে; কিংবা (খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে—
তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।

(২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত—
(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা
(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে—
তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এখন দেখা যাক, ড. ইউনূস সংবিধানের কোন কোন অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সংবিধান লংঘনের অন্তত পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এগুলো হলো—-
১) এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে সংবিধান সংশোধন আদেশ জারি—ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ হলো ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রণীত একটি বিশেষ অধ্যাদেশ। ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রাষ্ট্রপতি এই আদেশ জারি করেন, যার লক্ষ্য হলো সংবিধানে ব্যাপক সংস্কার ও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ মোট ৮৪টির বেশি প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হয়।

এটি সুস্পষ্ট সংবিধানের পরিপন্থী। বর্তমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে কিভাবে সংবিধানের সংশোধন করা যায় সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৪২ক) সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবে।
তবে শর্ত থাকে যে, (অ) অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ণ শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না;
(আ) সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না;”

সংবিধান বহাল রেখে ইউনূস সংবিধান সংশোধন আদেশ জারি করেন। যা বর্তমান সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়নি। এই আদেশকে আইনমন্ত্রী সংবিধান পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন। জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ ধরনের আদেশ জারির কোন এখতিয়ার নেই। জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার একটি দলিল। সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক এই আদেশকে সংবিধান লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেছেন, এই অবৈধ আদেশে তাকে স্বাক্ষরে বাধ‍্য করা হয়েছে। সবার বক্তব্য একসঙ্গে আমলে নিলে এটা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান সংবিধান লংঘন এবং অবমাননা করেছেন। যা বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এজন্য সংবিধানে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে।

২) বেআইনি গণভোট অধ‍্যাদেশ জারির মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন- বর্তমান সংবিধানে গনভোটের কোন বিধান নেই। কিন্তু সংবিধান লঙ্ঘন করে ড. ইউনূস গণভোট অধ‍্যাদেশ জারি এবং গণভোটের আয়োজন করেন। সাংবিধানিক এখতিয়ারবহির্ভূত এই গণভোট অধ‍্যাদেশ সুস্পষ্টভাবে সংবিধান লঙ্ঘন। জাতীয় সংসদ ছাড়া সংবিধানে কোন কিছু পরিবর্তন বা সংযোজন সংবিধানের পরিপন্থী। এখানেও ইউনূস সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত।

৩) শপথ ভঙ্গ- সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্সের ভিত্তিতে ড. ইউনূস দেশের প্রধান নির্বাহী পদে নিযুক্ত হন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। যাতে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া আইন অনুযায়ী সকল মানুষের প্রতি যথাবিহিত আচরণ করিব। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তিনি সকল নাগরিকের প্রতি যথাবিহিত আচরণ করেননি বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার শাসনামলে পক্ষপাতিত্ব এবং স্বজনপ্রীতির অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এসব পক্ষপাতমূলক আচরণের মাধ্যমে ইউনূস শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

৪) মৌলিক অধিকারহরণ- আমাদের সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত অনুচ্ছেদে জনগণের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এসব মৌলিক অধিকার হরণ বেআইনি এবং অবৈধ। সরকার প্রধান হিসেবে ইউনূস সংবিধানের ২৭, আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকার হরণ করেছেন। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। কিন্তু ইউনূস সরকারের আমলে অন্তত ৫০ হাজার নাগরিককে বিনা বিচারে আটক রাখা হয়েছিল। তারা আইনের আশ্রয় লাভের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় কারণে বৈষম্যমূলক আচরণ না করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না। কিন্তু ইউনূস আমলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মাসে শুধু ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের প্রায় এক হাজার ঘটনা ঘটে। ইউনূস সরকার এসব হামলা বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দাবি করেছে।বাউলদের উপর হামলা, মাজার আক্রমণের ঘটনা সুস্পষ্ট ভাবে সংবিধানের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।যার দায়ভার ইউনূস কোনভাবেই এড়াতে পারে না।

সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের আশ্রয়লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহারলাভ যে কোন স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষত আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে। কিন্তু সরকারের আমলে বেআইনি ভাবে লক্ষাধিক মানুষকে আটক করা হয়। মব সন্ত্রাসের শিকার হাজার হাজার মানুষ আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বেআইনিভাবে কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়াই, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে এগারো শিল্প গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে তাদের জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটানো হয়েছে। বহু মানুষের ব‍্যাংক একাউন্ট জব্দ করে সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। শুধু সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ নয়, ইউনূস সরকারের এসব অসাংবিধানিক কার্যকলাপের মাধ্যমে সংবিধানের ৩২ এবং ৩৩ অনুচ্ছেদও লঙ্ঘন করা হয়েছে।

ইউনূস সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে সংবিধানের ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ২৮ (ধর্মীয় কারণে বৈষম্য না করা) ৩১ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) ৩২ (জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার) ৩৬ ( চলাফেরার স্বাধীনতা) ৩৭ ( সমাবেশের স্বাধীনতা) ৩৯ (চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা) ৪০ (পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা) ৪১ (ধর্মীয় স্বাধীনতা) হরণ করা হয়েছে। যা সংবিধানের মৌলিক অধিকার হরণ।

ইউনূস সরকার বহু মানুষকে কোন আইন ছাড়াই তাদের কর্মস্থলে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করা হয়েছে। যা সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে কোন পেশা বা বৃত্তি-গ্রহণের কিংবা কারবার বা ব্যবসায়-পরিচালনার জন্য আইনের দ্বারা কোন যোগ্যতা নির্ধারিত হইয়া থাকিলে অনুরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি-গ্রহণের এবং যে কোন আইনসঙ্গত কারবার বা ব্যবসায়-পরিচালনার অধিকার থাকিবে।

সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের লংঘন করে ইউনূসের পৃষ্ঠপোষকতায় মব বাহিনী বিভিন্ন ব‍্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে, ইউনূস সরকারের মদদে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিচার ছাড়াই বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ক্রোক, ব‍্যাংক একাউন্ট জব্দ করে সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদ লংঘন করা হয়েছে।

ইউনূস সরকারের আমলে সংবাদপত্র অফিসে হামলা, ভয় ভীতি প্রদর্শন সাংবাদিকদের ওপর হামলা, তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া ছিল নিত‍্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ইউনূস আমলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে চরমভাবে। অথচ সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ৩৯। (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।

(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে।
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।

অর্থাৎ ইউনূস এবং তার সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে সংবিধানের মৌলিক অধিকার হরণ করেছেন।
আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরে সংবিধান লঙ্ঘন- সংবিধানের ১৪৫ক অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-বিদেশের সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে, এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সহিত সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হইবে।

ইউনূস সরকারের আমলে অনেকগুলি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শেষ সময়ে বিদেশিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটা চুক্তি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এবং চীনেরসঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করা হয় গোটা জাতিকে অন্ধকারে রেখে। চীনের সাথে ড্রোন কারখানা স্থাপনের জিটুজি চুক্তি, পাকিস্তান থেকেজেএফ-১৭ থান্ডার এবং চীন থেকে জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন ক্রয়, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার সংগ্রহ এবং জাপানের সাথেপ্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বেশ সমালোচনা আছে সব মহলে। কিন্তু সংবিধানের ১৪৫ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এসব কোন আন্তর্জাতিক চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হয়নি। যা সংবিধান লঙ্ঘন এবং গুরুতর অপরাধ।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে সুবিধা গ্রহণ- ইউনূস তার ১৮ মাসের শাসনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এই তালিকা অনেক দীর্ঘ। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বেশকিছু সুবিধা পেয়েছে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ঢাকায় ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে চলবে। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (জিইএসএল) বিএমইটি থেকে একটি লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স (RL No. 2806) পায় এবং এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যপদ লাভ করে।
ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গ্রামীণ টেলিকমের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পেমেন্ট সার্ভিস প্রভাইডার (পিএসপি) হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘অনাপত্তি সনদ’ (এনওসি) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি পিএসপি লাইসেন্স পায়।
২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ক্ষমতায় থেকে নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সুবিধা গ্রহণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অপরাধের জন্য চৌদ্দ বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহার বা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার (Maladministration) বিভিন্ন আইন অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। মূলত দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর অধীনে এর বিচার করা হয়। ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এইসব সুযোগ সুবিধা নিয়ে পেনাল কোডের যেসব ধারায় অপরাধ করেছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১৬৬ ধারা: সরকারি কর্মচারী বেআইনিভাবে কোনো ব্যক্তিকে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে আইন অমান্য করলে এই ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।

১৬৭ ধারা: সরকারি কর্মচারী কোনো নথিপত্র বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড ভুলভাবে তৈরি করলে।
১৬৮ ধারা: সরকারি কর্মচারী বেআইনিভাবে বাণিজ্যে লিপ্ত হলে।
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, এই আইনের ৫(২) ধারাঅনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বা অন্য কারো জন্য অবৈধ সুবিধা গ্রহণ বা সম্পদ আত্মসাৎ করলে তা আমলযোগ্য (Cognizable) ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বিচারিক কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপ- প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই অর্থপাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাঁকে খালাস দেয়। এ ছাড়া, শপথ নেওয়ার আগের দিনই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের যে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল, সেই মামলাতেও আদালত তাঁদের খালাস দেয়। তার বিরুদ্ধে থাকা আয়কর ফাঁকির মামলাও বাতিল করা হয়। এটা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত যে, প্রধান উপদেষ্টার পদে থাকাকালীন তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেছেন। এটি বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Manual3 Ad Code

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code): বিচারিক কার্যধারায় বাধা দেওয়া, ভীতি প্রদর্শন বা হস্তক্ষেপের জন্য দণ্ডবিধির ২২৮ ধারা (Section 228) প্রযোজ্য, যেখানে বিচারক বা আদালতের কাজে ইচ্ছাকৃত অপমান বা বিঘ্ন ঘটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩: বিচারিক কার্যে (Judicial proceeding) হস্তক্ষেপ, অবমাননা বা বাধা দিলে তা আদালত অবমাননা আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।অন্যান্য আইন: তদন্ত বা সাক্ষ্য প্রদানে বাধা দেওয়া (সাক্ষীকে হুমকি বা প্রভাবিত করা) বিচার কাজে হস্তক্ষেপের সমতুল্য অপরাধ। এসব অপরাধের জন্য এক থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি- ড. ইউনূস এবং তার উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসম্পর্কে দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন আইন অনুযায়ী এধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির অপরাধটি মূলত দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ (Prevention of Corruption Act, 1947) এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)এর বিভিন্ন ধারার অধীনে বিচার করা হয়। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর তফসিল অনুযায়ী এই অপরাধগুলোর তদন্ত ও বিচার করা হয়।

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রধান ধারাসমূহ হলো:
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ধারা ৫(২): যখন কোনো সরকারি কর্মচারী বা জনসেবক তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে (Criminal Misconduct) নিজের বা অন্য কারো জন্য বেআইনিভাবে আর্থিক সুবিধা বা মূল্যবান সম্পদ অর্জন করেন, তবে তিনি এই ধারায় অপরাধী হবেন।

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ১৬১-১৬৫ (ক): সরকারি কর্মচারীর দ্বারা ঘুষ গ্রহণ, অসাধু উপায়ে সুবিধা নেওয়া বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দাপ্তরিক কর্তব্য পালনে অনিয়ম করা।

ইউনূস ক্ষমতায় থাকাকালে নিজের এবং তার প্রতিষ্ঠানের আয়কর মওকুফ করিয়েছেন। এটা দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হবার জন্য গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়, রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স, ডিজিটাল ব্যাংক সহ যা কিছু নিয়েছেন, তা সবই দুর্নীতি দমন আইনে দন্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধ প্রমানিত হলে তার সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে।

হামে শিশু হত্যার দায় ইউনূস এবং নূরজাহানের-বাংলাদেশের আইনে অবহেলায় মৃত্যু তখন হত্যাকাণ্ড (Negligent Homicide) হিসেবে গণ্য হয়, যখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গুরুতর গাফিলতি, বেপরোয়া আচরণ বা দায়িত্বহীনতার ফলে কারো মৃত্যু ঘটে, যদিও তার সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না।বাংলাদেশে দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারা অনুযায়ী, বেপরোয়া বা অবহেলামূলক কাজের জন্য মৃত্যু হত‍্যাকান্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে ইউনূস এবং তার প্রিয় স্বাস্থ্য উপদেষ্টার চরম অবহেলার কারণে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এটা গুরুতর গাফিলতি এবং ফৌজদারি অপরাধ।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করা দরকার। একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত অবিলম্বে শুরু করা উচিত।

Manual1 Ad Code

তথ্য সুএঃ কালের কণ্ঠ

Manual7 Ad Code