আজ সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আতিকুল্লাহ ভূঁইয়ার সাফল্য; শখের বসে শুরু করা মিশ্র ফল চাষ ও নার্সারী এখন আয়ের উৎস

editor
প্রকাশিত মে ২৪, ২০২৫, ০৬:০৯ অপরাহ্ণ
আতিকুল্লাহ ভূঁইয়ার সাফল্য; শখের বসে শুরু করা মিশ্র ফল চাষ ও নার্সারী এখন আয়ের উৎস

Manual5 Ad Code

তৈয়বুর রহমান ( কালীগঞ্জ) গাজীপুর

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বরাইয়া (ভূঁইয়া বাড়ি) গ্রামের ষাটোর্ধ কৃষক আতিকুল্লাহ ভূঁইয়া তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও কৃষির প্রতি ভালোবাসা দিয়ে গড়েছেন এক ব্যতিক্রমী সাফল্যের গল্প। শখের বসে শুরু করা চাষাবাদ আজ তাকে এলাকায় এক সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত করেছে।

Manual2 Ad Code

আতিকুল্লাহ ভূঁইয়ার কৃষি যাত্রা শুরু হয় ইউটিউবের ভিডিও দেখে। প্রযুক্তির সহায়তায় শেখা চাষ পদ্ধতি ও বিদেশি ফলের প্রতি আগ্রহ থেকেই শুরু হয় তার নতুন অধ্যায়। ২০২২ সালে চুয়াডাঙ্গা থেকে সংগ্রহ করেন ১০টি বিদেশি জাতের আঙুর চারা। প্রথম প্রয়াসে সফল না হলেও হাল না ছেড়ে দ্বিতীয়বার ৫০টি চারা রোপণ করে পান কাক্সিক্ষত ফল। সেই থেকে থেমে থাকেননি তিনি।

বর্তমানে তার বাগানে আঙুর, রাম ভুটান, লিচু, কুল, মাল্টা, কমলা, আম, পেয়ারা, জামরুল, ভিয়েতনামি কাঁঠালসহ ৩৫ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ জাগিয়েছে।

তিনি শুধু ফল চাষেই সীমাবদ্ধ নন, গড়ে তুলেছেন একটি সফল নার্সারিও। এলাকার শত শত কৃষক তার কাছ থেকে ফলের চারা সংগ্রহ করে নিজেদের জমিতে মিশ্র ফল চাষ শুরু করেছেন। তার বাগানে ব্যবহৃত পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফেরোমন ফাঁদ, কালার টেপ ইত্যাদি, যা ফলকে রাখছে বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর।

Manual5 Ad Code

স্থানীয়রা জানায়, প্রকৃতি, পরিশ্রম ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আতিকুল্লাহ ভূঁইয়ার এই উদ্যোগ এখন শুধু তার গ্রামের গর্ব নয়, বরং মিশ্র ফল চাষে তিনি পুরো উপজেলার একটি আদর্শ মডেল।

তার স্ত্রী নূর আক্তার বেগম বলেন, “আমার স্বামীর কৃষির প্রতি ভালোবাসা দেখে আমি সবসময় তাকে সহযোগিতা করি। তার সফলতায় পরিবার হিসেবে আমরা গর্বিত।”

Manual5 Ad Code

Manual3 Ad Code

আতিকুল্লাহ বলেন, “ছেলেরা বিদেশে থাকলেও আমি মাটির টানে কাজ করি, এটা আমার শখ এবং এখন জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা।”

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফারজানা তাসলিম জানান, “আতিকুল্লাহ ভূঁইয়ার মতো উদ্যোক্তা আমাদের কৃষি খাতের জন্য সম্পদ। তার সফলতা অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগায়।”