আজ মঙ্গলবার, ৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশব্যাপী কর্মবিরতিতে যাচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ণ
দেশব্যাপী কর্মবিরতিতে যাচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা

Sharing is caring!


Manual6 Ad Code

সিনিয়র রিপোর্টার:

Manual3 Ad Code

হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকরসহ পূর্বে সম্পাদিত সব চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) থেকে দেশব্যাপী কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ এর আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতো হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের শ্রমিকরাও চরম দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। হোটেল মালিকরা নিয়মিত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রদান করছেন না। একই সঙ্গে শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান করা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি দেওয়ার বিধান থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক ত্রি-পক্ষীয় ও দ্বি-পক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেগুলোর কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি।

Manual7 Ad Code

আক্তারুজ্জামান খান জানান, চলতি বছরের ৫ মে সরকার হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের জন্য নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করলেও প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর হয়নি। যা শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি বলেন, গত ২০ অক্টোবর ও ১৮ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান এবং ২৪ ডিসেম্বর ত্রি-পক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হলেও সরকার ও মালিক পক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি প্রদান, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র নিশ্চিতকরণ, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস বাস্তবায়ন এবং পূর্বে সম্পাদিত সব চুক্তি কার্যকরের দাবিতে আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আরও বলেন, গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি আইনের রূপ নেয় এবং এর বাস্তবায়নের দায় রাষ্ট্র ও সরকারের ওপর বর্তায়। অথচ বাস্তবে শ্রম আইনের মৌলিক বিধানগুলো উপেক্ষিত হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর স্টার গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০২৫ সালের ৯ মার্চ স্বাক্ষরিত চুক্তিও আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

Manual8 Ad Code

ভোরে সোনার দোকানে যেভাবে ‘পুকুর চুরির’ ঘটনা ঘটেছে
তিনি দাবি করেন, এটি কোনো অতিরিক্ত দাবি নয়; বরং শ্রমিকদের আইনস্বীকৃত অধিকার। সরকারের অবহেলার কারণেই শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে জেলা, বিভাগ ও উপজেলা পর্যায়ে সংগ্রাম পরিষদের কমিটি গঠিত হয়েছে এবং সাতটি বিভাগেই সংগঠনের কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূল প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের ভিত্তিতেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে এবং তা সারাদেশে সর্বাত্মকভাবে পালিত হবে।

Manual3 Ad Code

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code