আজ সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাউয়াদীঘি হাওর পাড়ের কৃষকদের চিন্তার ভাঁজ

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ণ
কাউয়াদীঘি হাওর পাড়ের কৃষকদের চিন্তার ভাঁজ

Manual4 Ad Code

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘির পূর্ব দিকে জালালপুর পেটুর বন এলাকায় একটাসময় খালের পানি দিয়ে ফসলি জমিতে সেচ দেওয়া হতো। সেই পানিতে চাষ করা হতো বোরো ধান, ফলত নানা জাতের ফসল। এখন সেখানে বিরাজ করছে খা খা পানিশূন্যতার। পেটুর খাল দখল ও ভরাট হওয়ায় মনু প্রকল্পের পানি পৌঁছাচ্ছে না ওই এলাকায়।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাকৃতিক উৎসের পানি ব্যবহার করে হাওরপাড়ের মানুষ বোরো ধান চাষ করেন। খাল দখলমুক্ত করে পুনরায় খনন করার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন মহলে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বরাদ্দ আসলে কাজ করা হবে।

Manual5 Ad Code

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, মৌলভীবাজারের মনু নদীর সেচ প্রকল্পের পানি জালালপুর পেটুর খাল দিয়ে কাউয়াদিঘি হাওর এলাকার পেটুগাঁও, শত্রুমর্দন ও জালালপুর গ্রামের কৃষিজমিতে আসত। এখন পেটুর খাল দখল ও ভরাট হওয়ায় শতাধিক বিঘা জমিতে বোরো চাষ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা।

তাদের অভিযোগ, সময়মতো খাল খনন ও দখলমুক্ত না করায় পানি সংকটে ভুগছেন তারা। এতে হুমকিতে পড়েছে পুরো এলাকার কৃষি উৎপাদন।

Manual6 Ad Code

তথ্যনুসারে জানা যায় এবং কথা হয় জালালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন করা হয় না। বাড়ি-ঘর তৈরী করে দখল করেছে লোকজন। এতে সময়মতো পর্যাপ্ত পানি আসে না। পানির অভাবে আমরা চাষ করতে পারি না।

Manual1 Ad Code

স্থানীয় কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, খাল দখল হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নালা থেকে পানি মাঠে যায় না।

Manual4 Ad Code

জালালপুর গ্রামের মকসদ মিয়া বলেন, খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শতাধিক বিঘার জমিতে চাষ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান, যাতে আবারও পেটুর খালের পানিতে প্রাণ ফিরে পায় কাউয়াদিঘি হাওরের বোরো ধানের ক্ষেত ও শ্বাস ফেলতে পারেন কৃষককেরা। নাহলে পানির অভাবে এই জনপদের কৃষি অর্থনীতি আরো বড় সংকটে পড়বে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেছেন, পেটুর খালসহ দখল ও ভরাট হওয়া খালগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খনন ও দখলমুক্ত করার কাজ চলছে। আমরা খাল খননের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বরাদ্দ আসলে কাজ শুরু করা হবে অতি দ্রুত।