কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার
কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual2 Ad Code
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে সাধারণ মানুষের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অপসংস্কৃতি রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নবপ্রণীত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে।
Manual8 Ad Code
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, এই আইনের আওতায় যেকোনো অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে উল্লেখ করেছিলেন যে, বর্তমানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে অনেকেই সাধারণ মানুষের ভিডিও ধারণ করে কুরুচিপূর্ণ শিরোনামে প্রচার করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিডিওর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এই ধরনের হয়রানি বন্ধে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বর্তমান আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
Manual1 Ad Code
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর ২৫(১) ধারা মোতাবেক ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী যদি কোনো নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হয়, তবে সাজার পরিমাণ বেড়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ভিডিওর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করাকে ‘সাইবার প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য করে ৫ বছরের জেল ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে বলে সংসদকে জানান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। এর ফলে ভিডিওর মূল উৎস এবং অপরাধীর পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়া যারা দেশের বাইরে অবস্থান করে এই ধরনের সাইবার অপরাধে লিপ্ত রয়েছেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২’ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
Manual2 Ad Code
অনলাইনে ক্ষতিকর বা আপত্তিকর কন্টেন্ট দ্রুত অপসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালককে যেকোনো ক্ষতিকর তথ্য ব্লক বা সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিটিআরসির মাধ্যমে এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি চালানো এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তারের বিশেষ ক্ষমতাও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধীদের রিয়েল-টাইমে শনাক্ত করতে ‘সোয়ার’ এবং ‘ইডিআর’-এর মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।