কিছু না জেনে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দিলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে: জি এম কাদের
কিছু না জেনে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দিলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে: জি এম কাদের
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু না জেনে, না বুঝে মানুষ যদি ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দেয়, তাহলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। তার দল বারবার কথাটি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছে।
Manual1 Ad Code
তিনি বলেন, সরকার গণভোটের কথা বলে সংস্কারের নামে মুলা ঝুলাতে চাচ্ছে। গণভোটে তারা ‘হ্যাঁ’ জয়ী করার জন্য মরিয়া হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকতে চায়। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকা মানেই সেই ক্ষমতা জামায়াত ও এনসিপির হাতে থাকা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা থেকে নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণার উদ্দেশ্যে রংপুরে পৌছে নিজ বাসভবন স্কাইভিউতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জি এম কাদের। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সহিংসতা ও সংঘর্ষে দেশের মানুষ উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে এবং ভয়ভীতি ও শক্তি প্রদর্শনের এই পরিবেশে কখনোই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
Manual1 Ad Code
তিনি বলেন, দেশে চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ ও সুষ্ঠু নয়। একটি বড় রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি। দুইটি দল যেভাবে দাপটের সঙ্গে মাঠে রয়েছে, সে সুযোগ জাতীয় পার্টি পাচ্ছে না। শুধু নেতাকর্মী বা প্রার্থী নয়, ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে না আসার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।
জি এম কাদের আরো বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এই ধরনের পরিবেশ না থাকলে একতরফাভাবে ফল ঘোষণা করা হবে, যা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও বাধাগ্রস্ত হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
Manual7 Ad Code
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সংস্কারের কথা বললেও কী সংস্কার করবে—তা পরিষ্কার করে বলছে না। গণভোটের মাধ্যমে হ্যাঁ-কে বিজয়ী করে ক্ষমতায় থাকার সময় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, সরকার একটি সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের পথে এগোচ্ছে, যা পাকিস্তানি চিন্তাধারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকেই তারা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে পাকিস্তানি আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র গঠনের শেষ ধাপ হিসেবেই গণভোটকে সামনে আনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশে পরিকল্পিতভাবে মব তৈরি করে সহিংসতা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, মানুষ হত্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, মিল-ফ্যাক্টরি ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি দেখানোর রাজনীতি চলছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে হলে গণভোটে ‘না’ বলতে হবে। গণভোটে হ্যাঁ জিতলে স্বাধীনতা নয়, গোলামিই প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু, জাপা নেতা ফারুক আহমেদসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।