আন্দোলনে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, ‘উদ্বিগ্ন’ ব্যবহারকারীরা
আন্দোলনে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, ‘উদ্বিগ্ন’ ব্যবহারকারীরা
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
“এবার প্রথমবারের মতো জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে; এটা উদ্বেগের,” বলেন বিজিএমইএর সাবেক নেতা এমএ সালাম।
Manual2 Ad Code
টানা কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট অচলাবস্থায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
এ নিয়ে বুধবার (৪ঠা ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় নগরীর আগ্রাবাদে একটি হোটেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তারা বৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে ব্যবহারকারীদের পক্ষে বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এমএ সালাম সাংবাদিকদের বলেন, “আজ বসেছিলাম এবং বিশদ আলোচনা হয়েছে; প্রায় চার ঘণ্টা। আপনারা জানেন যে সামনে ইলেকশন, তিন দিনের ছুটি। ঠিক এর সাত-আট দিন পরে রমজান। রমজানের পণ্যগুলো কীভাবে ডেলিভারি হবে সেগুলো নিয়ে আমরা চিন্তিত।
Manual7 Ad Code
“এবং গার্মেন্টস সেক্টর বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে কাজ করবে মাত্র ১৮ দিন, মার্চে কাজ করবে মাত্র ১৬ থেকে ১৭ দিন। তো এইভাবে তো যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকে, তাহলে প্রেজেন্ট পণ্যগুলো যাবে না আবার ভবিষ্যৎ পণ্যগুলি আসবে না। আমরা অসম্ভব ক্ষতির মুখে আছি, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এবং রমজানের উসিলায় পুরো দেশবাসী।”
তিনি বলেন, বন্দর যদি এইভাবে বন্ধ থাকে, বন্দরের যে চার্জেসগুলি আসবে এগুলোর সবগুলির দায়ভার ব্যবসার ওপর আসবে। ব্যবসার ওপর আসলে তো আর ব্যবসায়ীরা দিবে না, আল্টিমেটলি এটা কনজিউমারের ওপর যাবে। সেই জন্যই আমরা ওরিড।”
তিনি বলেন, “তো তাদের সাথে আমরা বসে…তারা আমাদেরকে কথা দিয়েছে যে তাদের যে দাবিদাওয়া আছে, এগুলো যৌক্তিক। তারা যে পয়েন্টগুলি দিয়েছেন, সেই পয়েন্টগুলি আমরা সরকারকেও অনুরোধ করব।”
এনসিটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মন্তব্য করে এম এ সালাম বলেন, “তাদের কিছু কিছু শ্রমিক বদলি করে দেওয়া হয়েছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে—এগুলো নিয়ে তারা কনসার্ন। তাদের যে কনসার্ন পয়েন্টগুলো আছে, এখন আলোচনা ছাড়া তো কোনো সমাধান হবে না।
“তো তারা আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছে যে, যদি আলোচনা শুরু হয় এবং যদি এনসিটির ব্যাপারে বৃহৎ আকারে আলোচনা হয় আপাতত বন্ধ রেখে, তারা ইমিডিয়েটলি কাজে অংশগ্রহণ করবে।”
বন্দরকে বাংলাদেশের লাইফলাইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বন্দর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করব ৯০ পার্সেন্ট এক্সপোর্ট ইমপোর্ট, যেটা চিটাগং পোর্টের মাধ্যমে হয়, এটা চার দিন বন্ধ থাকতে পারে না।
এশিয়ার গ্রুপের স্বত্বাধিকারী এমএ সালাম বলেন, “আগেও একদিন বা দুদিন তিন দিন বন্ধ হয়েছে কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ হয় নাই। কিন্তু এবার প্রথমবার জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এটা উদ্বেগের, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবাই এটার দিকে তাকিয়ে আছে। এটাতে আমাদের সুনাম বয়ে আনছে না, বরং দুর্নাম বয়ে আনছে।”
বৈঠক শেষে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন বলেন, “এই অচল অবস্থা নিরসন কল্পে দু-চারটি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উনারা আমাদেরকে প্রস্তাব করেছে। আমরাও ওনাদেরকে প্রস্তাব করেছি।
“উনারা সরকার পক্ষের সঙ্গে হয়ত কথাবার্তা বলবেন। আপাতত ইউজার ফোরাম বা বিভিন্ন ব্যবসায়ী যারা আছেন, উনারা আমাদের বর্তমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আগামীকাল আমাদের পাশে থাকবেন।”
কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে কিনা জানতে চাইলে ইব্রাহীম খোকন বলেন, “আমাদের কর্মবিরতি এটা অনির্দিষ্টকালের জন্য চলছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার এনসিটি বেসরকারিকরণের অবস্থান থেকে সরে না আসবে এবং আমাদের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অনৈতিক ব্যবস্থা, বিশেষ করে বদলি থেকে শুরু করে অন্যান্য যে আইন-কানুন প্রয়োগ করে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিভিন্ন সময়ে, সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে ভবিষ্যতে আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকমের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন না- এই মর্মে আমরা বলেছি আলোচনা হতে পারে।”
Manual5 Ad Code
আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল’ (এনসিটি) ইজারার দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শনিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু কর বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।
পরবর্তীতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে তারা আন্দোলন শুরু করে।
মঙ্গলবার সংগ্রাম পরিষদ ২৪ ঘন্টার কর্মবিরতির পরে বুধবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করে। তাদের কর্মবিরতির কারণে বন্দরে অচলাবস্থার তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনের মধ্যে দুই দিনে ১৬ জনকে অন্যান্য বন্দরে বদলি করা হয়েছে।