একই দাবিতে শুক্রবার জুমার পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল সংগঠনটি। আরেকটি অংশ যমুনার সামনে অবস্থান অব্যাহত রেখেছিল।
Manual8 Ad Code
কিন্তু সকাল থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক দফা চড়াও হয়। সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে জড়ো হওয়া কয়েকশ আন্দোলনরতদের লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পুলিশ।
এ সময় সরকারি কর্মচারিদের সঙ্গে যমুনার সামনে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়।
Manual4 Ad Code
এরপর দুপুর সোয়া একটার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পরই ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দেওয়া পুলিশের ব্যারিক্যাডের সামনে অবস্থান নেয়। তাদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা বাগবিতণ্ডা চলতে দেখা যায়।
একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে তারা যমুনা অভিমুখে যেতে চাইলে ‘পুলিশি অ্যাকশন’ শুরু হয়।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা এক ব্যক্তি।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর ওই রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)।
তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।