সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ ১১ দলীয় ঐক্যের
সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ ১১ দলীয় ঐক্যের
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
Manual8 Ad Code
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য জোট। সেই সঙ্গে দলটির বিরুদ্ধে নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ভোটারদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন তারা।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ‘সারাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে’ আয়োজিত সমাবেশে জোটের নেতারা এসব অভিযোগ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থী সাইফুল আলম মিলন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে জোটের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
‘ডিপ স্টেট’ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ মামুনুল হকের
নির্বাচনে ‘ডিপ স্টেট’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে ব্যবহার করা হয়েছে এবং জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি ঢাকা-১৩ আসনে নির্বাচনে হেরে যান। এ নির্বাচন নিয়েও তিনি নানা অনিয়মের অভিযোগ আনেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বলেন, সারাদিন সন্দেহপূর্ণ ভোট গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করে, সন্ধ্যার পর সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে টার্গেট করা ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ সময় তিনি নির্বাচনের পর সারাদেশে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়ন, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, শারীরিক লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে অভিযোগ করে বলেন, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার করতে হবে।
Manual2 Ad Code
খুলনা-৫ আসনে হেরে যাওয়া জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম করে ১১-দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ের বার্তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেসব আসনে অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হয়েছে, কোনো টালবাহানা না করে অবিলম্বে সেগুলোর বিচার এবং নিষ্পত্তি করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় দেশের মানুষ বিস্মিত। এভাবে ম্যানিপুলেশন করে বিজয়ী হয়েও আপনারা জাতির ওপরে হামলে পড়েছেন। খুন, সন্ত্রাস, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, মা-বোনদের ধর্ষণের দৃশ্য আমাদের আবার ফ্যাসিবাদের চিত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনাদের সংযত হতে হবে। তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট’ করে ‘না’ ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনেন।
Manual3 Ad Code
কড়ায়গণ্ডায় হিসাব বুঝে নেওয়া হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাচ্ছি। কারণ, যারা ভোট ডাকাত, তাদের বাংলাদেশের জনগণের সামনে উন্মোচন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। তারা কেবল ভোট চুরি করেনি, ডাকাতি করেছে। সংসদে ভোট ডাকাতরা গেছে। জনগণের সামনে আমরা বিরোধী দল হিসেবে হাজির হয়েছি। আমরা রাজপথে থাকব। জনগণের ওপর যারা ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে, ডাকাতি করেছে, নতুনভাবে জুলুম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, আমরা তাদের কাছ থেকে কড়ায়গণ্ডায়, ইঞ্চি ইঞ্চি করে হিসাব বুঝে নেব।’
বিএনপিকে ‘ভুল পথ’ থেকে ফিরে আসার আহ্বান মিলনের
বিএনপিকে ‘ভুল পথ’ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ী প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের একটি রক্তাক্ত বিপ্লবের পরে আমরা আশা করেছিলাম, দেশে একটা সুন্দর নির্বাচন হবে। এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে। সেখানে আমরা দুটি ব্যতিক্রম দেখতে পেয়েছি। এ নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে হয়নি। আর নির্বাচনের আগে ও পরে ভোটারদের অত্যাচার-নিপীড়ন করা হয়েছে। বাড়িঘর জ্বালানো হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার জন্য জুলাই আন্দোলন হয়নি। আমরা বড় দলটিকে (বিএনপি) আহ্বান করতে চাই যে, আপনারা এই ভুল পথ থেকে ফিরে আসুন। আপনারা সঠিক পথে আসুন।’
বিএনপিকে মজিবুর রহমান মঞ্জুর প্রশ্ন, অধৈর্য হলে রাষ্ট্র কীভাবে চালাবেন?
বিএনপির বিরুদ্ধে ভোট ‘ম্যানিপুলেশন’-এর অভিযোগ এনেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, জাল ভোট, নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করা, ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া– এভাবে প্রতিটি স্তরে অর্থের বিনিময়ে ভোট কিনে নির্বাচনকে কলুষিত করা হয়েছে। কী দরকার ছিল এর? কিন্তু এত অধৈর্য হয়ে গেলেন? এ অধৈর্য নিয়ে কীভাবে রাষ্ট্র চালাবেন? যে কলঙ্কতিলক আপনাদের কপালে লেগেছে, এটা দূর করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন।
Manual1 Ad Code
২০২৬ সালের ম্যানেজ ভোট হয়েছে: রাশেদ প্রধান
সমাবেশে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, ২০১৪ সালে হয়েছিল বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ হয়েছিল রাতের ভোট। ২০২৪ সালে আমরা দেখেছিলাম ডামি ভোট। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ভেবেছিলাম ২০২৬ সালে হবে আসল ভোট। কিন্তু ২০২৬ সালে হয়েছে ম্যানেজ ভোট।
তিনি বলেন, ‘লন্ডন থেকে ওই মুফতি সাহেব এসে জনগণের সমর্থন আদায় করতে না পেরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে, ডিপ স্টেটকে ম্যানেজ করে, নির্বাচন কমিশনকে ম্যানেজ করে, সরকারকে ম্যানেজ করে, ম্যানেজ ভোটের আয়োজন করেছেন। তবে এখানেই শেষ নয়, তারা ভোটের পর নির্মমভাবে জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, যেদিন ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে ছুটে গিয়েছিলেন, সেদিনই বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত হয়ে যায়। তারেক রহমান বাংলাদেশে এসে বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। তাঁর প্ল্যান ছিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া।