আজ শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে নিয়োগ নিয়ে বিএনপিতে আলোচনা

editor
প্রকাশিত মার্চ ৪, ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে নিয়োগ নিয়ে বিএনপিতে আলোচনা

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual5 Ad Code

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে কারা আসছেন। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রাষ্ট্র ও সংসদের এই শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ এবং রাজনৈতিকভাবে সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি, তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে দলের ভেতরে এবং বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো দাবি রয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য বর্তমান রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মেয়াদের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো বিএনপিতে তিন-চারজন আছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনা কেন? সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ তো শেষ হয়নি।

অন্যদিকে, আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। সেই অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। স্পিকার পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সংসদীয় বিধিবিধানে দক্ষ হিসেবে জয়নুল আবেদীনের নাম দলের ভেতর বেশ আলোচনায় রয়েছে।

Manual7 Ad Code

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সংসদ উপনেতা নির্বাচনের বিষয়টি এখনো কিছুটা অস্পষ্ট। বর্তমান সংবিধানে সংসদ উপনেতা পদের সরাসরি বিধান না থাকলেও অতীতে এই পদে নিয়োগ দেওয়ার নজির রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সংবিধানে উল্লেখ না থাকলেও সংসদীয় কার্যক্রমের সুবিধার্থে এর প্রয়োজনীয়তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন যে, ‘জুলাই জাতীয় সনদের’ সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে। এটি দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকেই সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে হয়। সংসদ সচিবালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে প্রস্তাব জমা দিতে হয়। যেহেতু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তাই স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি উভয় পদেই সরকারি দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

Manual1 Ad Code

দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা স্থায়ী কমিটির আগামী বৈঠকে এই পদগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভারসাম্য রক্ষা করেই তারেক রহমান তাঁর দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন। তথ্য সুএঃ প্রথমআলো