আজ মঙ্গলবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১লা পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন হচ্ছে না, এবার ভেতরের খবর ফাঁস : জিল্লুর রহমান

editor
প্রকাশিত নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৭:৫৯ অপরাহ্ণ
নির্বাচন হচ্ছে না, এবার ভেতরের খবর ফাঁস : জিল্লুর রহমান

Sharing is caring!


Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিল্লুর রহমান বলেছেন, “ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান সরকারের অধীনে আমি কোনো নির্বাচন দেখি না। আমি আবারও আমার কথার পুনরাবৃত্তি করছি। আমি বরাবরই বলে আসছি—যদি কোনো নির্বাচন হয়ও, সেটা একটি ‘ফার্সিকাল ইলেকশন’ হবে। সেটা হয়তো ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪-এর মতো কিংবা আরো পেছনে গেলে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি বা ১৯৮৬, ১৯৮৮ সালের মতো একটি নির্বাচন হবে এবং আদতে আমি এখন আর কোনো নির্বাচন দেখি না।

Manual7 Ad Code

অনেকেই অবাক হতে পারেন—কেন আসলে দেখি না? যারা অবাক হন, আমি তাদের কাছে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়তে চাই—কেন আপনি নির্বাচন দেখেন? কোন বিবেচনায় দেখেন? নির্বাচনের কী প্রস্তুতি আছে? সরকারের কোন সদিচ্ছা আপনি দেখতে পান? রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক কী ধরনের তৎপরতা লক্ষ করেন?”
শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে জিল্লুর রহমান এসব কথা বলেন।

জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমি বরাবরই বলে আসছি যে নির্বাচনটি অনেক আগেই হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কারণ গত ১৪ মাসে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নিরাপত্তা যেভাবে সংকটের মুখে পড়েছে—এই নির্বাচন অনেক আগেই হয়ে যেতে পারত এবং আমি এটাও বলেছি যে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনটা হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সেটা হয়নি। আর বিএনপিও নির্বাচনের জন্য সরকারকে তেমন চাপ দেয়নি।


তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তার মায়ের জন্য দোয়া, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টাকেও ধন্যবাদ দিয়েছেন। কিন্তু ওই বিবৃতির শেষ প্যারাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হচ্ছিল—তিনি (তারেক রহমান) দেশে ফিরছেন কি না। দলের নেতারা বিশেষ বিশেষ সময় বেঁধে দিয়ে বলছিলেন তিনি ফিরবেন; কিন্তু তারেক রহমান ফিরছিলেন না। আজ প্রথমবারের মতো তিনি পরিষ্কার করলেন—কেন তিনি আসছেন না। তার বক্তব্য হলো, বাংলাদেশে ফেরা তার নিজের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। এমন কিছু বিষয় আছে, যা অন্যদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

তিনি সব কিছু প্রকাশ করতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেছেন এবং শেষ লাইনটিতে বলেছেন—রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হলে তিনি দেশে ফিরবেন।’
জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এখন প্রশ্ন—রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী? আমার কাছে মনে হয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আসলে বিএনপি ও তারেক রহমানের অনুকূলে নেই। আমি জানি না ভবিষ্যতে কী হবে। আমি ফেব্রুয়ারিতে এখন আর নির্বাচন দেখি না। আবারও বলছি—এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়তো হতে পারে তিন মাস পরে, ছয় মাস পরে, কিংবা ফেব্রুয়ারির আগেও হতে পারে। সময় নেই—কথার কথা বলছি। কিন্তু এদের অধীনে প্রকৃত অর্থে কোনো নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তারা নানা চক্র ও ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি সেই টোপে পা দিয়েছে।’

জিল্লুর রহমান আরো বলেন, ‘গত কিছুদিন আমরা দেখলাম—জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি সবাই হইচই করছে কে কার সঙ্গে জোট করছে ইত্যাদি। আবার গত কয়েক দিন সব কিছু থমথমে, উত্তেজনাপূর্ণ, বিপজ্জনক। এই থমথমে ভাবটাও ভীষণ ভীতিকর। এর মধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের নিরাপত্তা উপদেষ্টা কখনো দোহায়, কখনো যুক্তরাষ্ট্রে, কখনো দিল্লিতে ছোটাছুটি করছেন।’

Manual3 Ad Code

তিনি মনে করেন, ‘আগামী কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্যই শুধু নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য অত্যন্ত ঘটনাবহুল হতে পারে। এবং সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়াবে—আমরা কেউই জানি না। এখানে যদি একটি জনগণের সরকার থাকত, নির্বাচিত সরকার থাকত, সঠিক রাজনীতি থাকত পরিস্থিতিটা অন্য রকম হতে পারত। তার পরও আমরা প্রত্যাশা করি—ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়েও মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়, দেশ ঘুরে দাঁড়ায়। খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও ইতিবাচক ধারা তৈরি হতে পারে। সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

Manual2 Ad Code

জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা যতটা পারি আমাদের অনুকূলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করব। কিন্তু আমরা সবাই দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করি। তিনি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন, এ কামনা করি। হয়তো তিনি আগের মতো রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারবেন না, কিন্তু পরিবারের অভিভাবকের মতোই তার অস্তিত্বই দলের জন্য অনেক শক্তি হতে পারে। দেশের জন্যও তিনি এক ধরনের শক্তি। আমরা সবাই মিলে তার আরোগ্য কামনা করি।’

 

Manual2 Ad Code

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code