আজ শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর কেন্দ্র থেকে যেভাবে বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
রূপপুর কেন্দ্র থেকে যেভাবে বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual8 Ad Code

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অবকাঠামো নির্মাণ ও কারিগরি প্রস্তুতির পর অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে আজ শুরু হচ্ছে পরমাণু জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম।

গত ১৬ এপ্রিল পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার পর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আজ বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী নিরাপত্তা ও কারিগরি শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতায় এর আগে কয়েকবার সময়সীমা নির্ধারণ করেও তা পেছাতে হয়েছে। এবার সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রথম ইউনিট সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কার্যক্রমে অংশ নিতে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞও অপারেটিং লাইসেন্স অর্জন করেছেন — যা দেশের পারমাণবিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে যোগ দিতে কেন্দ্রটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের একটি দলসহ চার্টার্ড ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে ঢাকায় আসছেন। ঢাকায় পৌঁছে তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর হেলিকপ্টারে রূপপুর প্ল্যান্টে যাবেন। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।

Manual1 Ad Code

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হতে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর ৩ ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে, এবং যোগ হবে —

Manual3 Ad Code

জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে: প্রথম পর্যায়ে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
চলতি বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরুতে: প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে গেলে পাওয়া যাবে ১,২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ।

দুটি ইউনিট চালু হলে: মোট উৎপাদন দাঁড়াবে ২,৪০০ মেগাওয়াটে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) রিয়্যাক্টর, যা তৃতীয় প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তির অন্যতম নিরাপদ মডেল হিসেবে বিবেচিত।সুএঃ যুগান্তর

Manual3 Ad Code