আজ মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রন্থাগারে ঢুকে মারধর; রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ শিবির নেতার নামে আদালতে মামলার আবেদন

editor
প্রকাশিত জুলাই ৩১, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
গ্রন্থাগারে ঢুকে মারধর; রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ শিবির নেতার নামে আদালতে মামলার আবেদন

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual3 Ad Code

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাকসু জিএস (সাধারণ সম্পাদক) সালাহউদ্দিন আম্মারসহ ৯ শিবির নেতা ও অজ্ঞাতনামা ১৭-১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নগরের মতিহার থানা আমলি আদালতে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা এমএস আসাদ উজ জামান (৫৫) বাদী হয়ে এ নালিশি মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অভিযোগকারীর আইনজীবী হযরত আলী বলেন, আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে মামলাটি নেওয়া যায় কিনা, সেটি প্রাথমিকভাবে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নেননি। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে পাঠিয়েছেন।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও রাকসু এজিএস এসএম সালমান সাব্বির (২৬), রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব (২৪), সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব (২৭), প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা (২৬), ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম (২৪), শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসান উল্লা ফারহান (২২), রাকসুর সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ (২৪) এবং নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদ (২৬)। এছাড়া মামলায় ১৭-১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. মাহমুদুল হাসান (মাহিন) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সালাহউদ্দিন আম্মার তাকে হত্যার উদ্দেশে হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে মাথায় ও কপালে পরপর তিনবার আঘাত করে জখম করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত সোমবার দুপুরে মাহমুদুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অধ্যয়ন করছিলেন। এ সময় ১৯/২০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অর্থাৎ ছোরা, রামদা, লোহার রড, বেলচা ও বাঁশের লাঠি ইত্যাদি নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে এবং হত্যার উদ্দেশে মারপিট শুরু করে।

Manual4 Ad Code

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১নং আসামি সালাহউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহিনের মাথায় ও কপালে পরপর তিনবার আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। অন্যান্য আসামিরাও রড ও লাঠি দিয়ে মাহমুদুল হাসানের চোখ, বুক, পিঠ ও শরীরে মারাত্মকভাবে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আঘাত করেন।

মামলার বাদী এম. এস আসাদ উজ জামান এজহারে জানান, ঘটনার পরদিন মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার ওসি মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। যে কারণে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে এ নালিশি আবেদন করেছেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার মাহমুদুল হাসান মাহিনসহ তিন শিক্ষার্থীকে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজাসহ রাকসু ও শিবির নেতারা দফায় দফায় মারধর করেন। পরে মাহমুদুলকে প্রক্টরিয়াল বডি উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি লাথি ও পেটানো হয়। পরে মাহমুদুল এবং আরেক শিক্ষার্থী আনাসকে হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নগরের শাহ মখদুম থানায় সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া আগের একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।তথ্য সুএঃ যুগান্তর

Manual6 Ad Code