এপ্রিলের তাপপ্রবাহ শেষে সোমবার থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত টানা বৃষ্টির মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশ। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে উত্তর-পূর্বের জেলা সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শেষ হতে চলেছে এপ্রিলের তাপপ্রবাহ। এ মাসের ২০ তারিখে শুরু হওয়া মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বিদায় নিয়েছে শনিবার। এ বছর এখন পর্যন্ত তাপমাত্রার পারদ উঠেছে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
Manual4 Ad Code
আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ বলছে—সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সাথে কালবৈশাখী ও বজ্রপাতের শঙ্কা রয়েছে।
Manual1 Ad Code
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ, পরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালে বজ্রমেঘ তৈরির ঘনঘটা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এটা আজকে সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী চার দিনের জন্য।’
Manual1 Ad Code
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, বৃষ্টির প্রকোপ বাড়লে উজানের ঢল তীব্র হয়ে ভাটির দিকে প্রবাহিত হবে। তাই সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, খোয়াই ও কংস নদ বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।
Manual1 Ad Code
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘এই অঞ্চলগুলোতে হাওরে পানি প্রবেশ করতে পারে এবং সেখানে বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকি থাকতে পারে। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা মেঘালয়ের এই অংশেই বেশি, কিন্তু পরে অব্যাহত থাকলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতার ফলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকি রয়েছে।’
উল্লেখ” ২০১৭ সালে এপ্রিলের শুরুতে ভয়াবহ বন্যায় হাওরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষায় এবারও বন্যা শুরুর আগেই ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।