ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসবে মুখরিত হাজ্বী শামসুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসবে মুখরিত হাজ্বী শামসুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
Oplus_131072
Manual7 Ad Code
ফাহাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম):
পিঠাপুলির দেশ বাংলাদেশ। তবে আধুনিক পিজ্জা বার্গারের ছোঁয়ায় পিঠাকে ভুলেই যেতে বসেছিলো বাঙালি। কিন্তু ধীরে ধীরে বাঙালির জীবনে ফিরে আসছে ঐতিহ্যবাহী পিঠা। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে প্রতি বছরের ন্যায় সোমবার, ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজ্বী শামসুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী আয়োজিত এ পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
Manual3 Ad Code
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনির সভাপতিত্বে সহকারি প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নুরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আমানুল হক আমান।
পিঠা পুলির ঘ্রাণে মুখোরিত হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পিঠা উৎসব উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকদের আগমনে স্কুল প্রাঙ্গণ মিলন মেলায় পরিণত হয়। উৎসবে ছিলো হরেক রকমের পিঠার আয়োজন। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানান ধরনের মুখরোচক পিঠা প্রদর্শনী করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা এবং ঐতিহ্য ধরা রাখাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য। দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্টলে নানা প্রকৃতির পিঠা নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরি করা এসব পিঠা দেখতে বিভিন্ন স্টলে ভিড় করেছিল অভিভাবকরা। স্টলে নানা রকম পিঠাপুলির পসরা সাজিয়ে রাখা আছে। এর মধ্যে কতিপয় পিঠা একেবারেই নতুন আবার কিছু অতিপরিচিত। প্রতিটা পিঠার ওপরে লেখা আছে পরিচিতি নাম। এসব পিঠার নামও বেশ বাহারি। উৎসবে ছিলো— ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, কলা পিঠা, খেজুরের রসের পিঠা, ক্ষীর কুলি, গোলাপ ফুল পিঠা, রস পিঠা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, পাকান পিঠা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, তেজপাতা পিঠা, তেলের পিঠা, কুমড়া পিঠা, চাঁদ পাকান পিঠা, ছিট পিঠা, দুধ চিতই, ফুল পিঠা, সেমাই পিঠা, নকশি পিঠা, নারকেল পিঠা, নারকেলের ভাজা পুলি, দুধরাজ, ফুলঝুরি পিঠাসহ আরও বাহারি সব নামের পিঠা। পুরো স্কুল মাঠ রূপ নিয়েছে অনিন্দ্য মিলনমেলায়। জানা-অজানা পিঠার সম্পর্কে জানতে পেরে এবং স্বাদ গ্রহণ করতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা।
Manual3 Ad Code
বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাহিরা বিনতে আনোয়ার আনিশা বলেন, প্রতিবছরই আমাদের বিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব হয়। এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মায়ের কাছ থেকে বিভিন্ন পিঠা বানানের অভিজ্ঞতা অর্জণ করি। আজ আমরা বান্ধবীরা মিলে হরেক রকম পিঠার আয়োজন করেছি। যেহেতু শীতকালে বিভিন্ন পিঠা তৈরী করা আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য। তাই আমাদের বিদ্যালয়ের মত সবারই উচিৎ এধরণের আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখা।
Manual5 Ad Code
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি বলেন, পিঠা-পুলি হলো আমাদের লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই প্রকাশ। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যকে স্মরণ করতেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে এ উৎসবের আয়োজন করেছেন। আমাদের স্কুলে প্রতি বছর এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সত্যিই বেশ ভালো লাগছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এরকম পিঠা উৎসব প্রশংসার দাবিদার। শিক্ষার পাশাপাশা এরকম ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রয়োজন রয়েছে।এ ধরণের উৎসব মেধা বিকাশে ও ঐতিহ্য কে ধরে রাখতে উৎসাহিত করবে। শিক্ষার্থীদের এমন সুন্দর উদ্যোগকে তিনি প্রশংসা করেন।