মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ, আর সেই সবুজের মাঝেই লুকিয়ে আছে কৃষকের আগামীর স্বপ্ন। ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় এখন পেঁয়াজের কন্দ (কদম) বীজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি অধিদপ্তরের বিশেষ উদ্যোগে ও সরকারি প্রণোদনায় এবার পীরগঞ্জের মাটিতে পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলনের আশা জাগছে, যা বদলে দিতে পারে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির সমীকরণ।
Manual8 Ad Code
বাংলাদেশে পেঁয়াজ চাষে অন্যতম বড় বাধা হলো মানসম্মত বীজের দুষ্প্রাপ্যতা ও উচ্চমূল্য। অধিকাংশ সময় কৃষকদের বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় খরিপ মৌসুমে শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের এই প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা বলছেন, সঠিক তদারকি আর সরকারি সহায়তা পাওয়ায় তারা এবার বড় অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮০ জন কৃষককে সরাসরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রতি জন কৃষককে ২০ শতাংশ জমিতে চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত মানের বীজ, সার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা জানান, আগে পেঁয়াজের বীজ কেনা ছিল এক বড় বিনিয়োগের ব্যাপার। এখন হাতের কাছে সরকারি সহায়তা ও পরামর্শ পাওয়ায় তারা নির্ভয়ে চাষাবাদ শুরু করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, বিদেশ থেকে বীজ আমদানি করা কেবল ব্যয়বহুলই নয়, অনেক সময় বীজের মান নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকে। স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন বাড়লে কৃষকদের উৎপাদন খরচ অনেক কমে আসবে। এতে তারা কেবল নিজেরা স্বাবলম্বী হবেন না, বরং স্থানীয় বাজারে বীজের জোগান নিশ্চিত করে অন্য কৃষকদেরও সহায়তা করতে পারবেন।
পীরগঞ্জের মাঠগুলোতে এখন পেঁয়াজ কন্দের সতেজ বৃদ্ধি জানান দিচ্ছে এক সফল মৌসুমের। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তবে এই প্রণোদনা কর্মসূচি পীরগঞ্জে শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে। কৃষকের চোখে এখন কেবল ফসল কাটার অপেক্ষা আর পেঁয়াজের ‘কদম’ থেকে নতুন দিনের স্বপ্ন বোনার হাতছানি।