আজ শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটে নৃসিংহদেব আখড়ার সেবায়িত যমুনা বৈষ্ণবীর পরলোকগমন, ভক্তমহলে শোকের ছায়া”

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে নৃসিংহদেব আখড়ার সেবায়িত যমুনা বৈষ্ণবীর পরলোকগমন, ভক্তমহলে শোকের ছায়া”

Manual5 Ad Code
স্বপন কুমার সিং :
সিলেট নগরের কালীঘাট এলাকার ভক্তবৎসল ভগবান শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব আখড়ার নিবেদিতপ্রাণ সেবায়িত শ্রীযুক্তা যমুনা বৈষ্ণবী আর নেই। তাঁর প্রয়াণে আখড়া প্রাঙ্গণসহ ভক্তসমাজে গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা প্রায় ২টায় দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার পৈতৃক বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি তিন কন্যা, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।
১৯৫৯ সালের ৫ মার্চ জন্ম নেওয়া যমুনা বৈষ্ণবী আজীবন ভক্তি, সেবা ও আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। নৃসিংহদেব আখড়ার একমাত্র সেবায়িত হিসেবে তিনি নিষ্ঠা, ত্যাগ ও ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে ভক্তদের কাছে এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তাঁর জীবন ছিল ভক্তি-সাধনা, নম্রতা ও সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তের দেহাবসান হলেও তাঁর আত্মা চিরন্তন পথযাত্রী—পরম সত্যের সান্নিধ্যে গমনই জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি। যমুনা বৈষ্ণবীর জীবন ও কর্ম সেই আধ্যাত্মিক চেতনারই প্রতিফলন, যা ভক্তদের মাঝে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
তাঁর এই প্রস্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সৎকর্ম, ভক্তি ও সেবাই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং বিশেষ করে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন আজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিকতা চর্চার মাধ্যমে একটি সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ভক্তরা। যমুনা বৈষ্ণবীর আদর্শ ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মকে সৎপথে পরিচালিত করবে—এমন প্রত্যাশা সবার।