আজ শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটে শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলার ৫ম দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক প্রাণবন্ত আবৃত্তি প্রতিযোগিতা

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলার ৫ম দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক প্রাণবন্ত আবৃত্তি প্রতিযোগিতা

Manual5 Ad Code
উৎফল বড়ুয়া, সিলেট
সাহিত্য, সংস্কৃতি আর সৃজনশীলতার মিলনমেলায় মুখরিত সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদমিনার। কমল সাহিত্য পরিষদ সিলেট-এর উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলার ৫ম দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক প্রাণবন্ত আবৃত্তি প্রতিযোগিতা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় বইমেলা মঞ্চে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তিনটি বিভাগে বিভক্ত প্রতিযোগিতাটি হয়ে ওঠে আবেগ, উচ্চারণ আর কাব্যিক আবহের এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রদর্শনী।
সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। কমল সাহিত্য পরিষদ সিলেট-এর সভাপতি সাজন আহমদ সাজুর সভাপতিত্বে এবং বইমেলা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. কাপ্তান হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আবৃত্তি শুধু শব্দের উচ্চারণ নয়, এটি মননের চর্চা, অনুভূতির প্রকাশ। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স-এর পরিচালক জহির হোসেন তুহিন এবং সিলেটস্থ শান্তিগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক স্বপন। তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বইমেলা কেবল বই কেনা-বেচার স্থান নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক জাগরণের কেন্দ্র। এমন আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কবি কাওসার আরা বেগম, গল্পকার জীম হামযাহ, কবি মকসুদ আহমদ লাল, বইমেলা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য কয়েস আহমদ, জুবায়ের আহমদ,ফারিহা কলি,সুবেজ আহমদ, কবি এম ওসমান আলীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। তারা আবৃত্তির মাধ্যমে ভাষা ও সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন।
আবৃত্তি প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন যুক্তাক্ষর সিলেট-এর পরিচালক বাচিকশিল্পী বিমল কর এবং কমল সাহিত্য পরিষদ সিলেট-এর সভাপতি সাজন আহমদ সাজু। বিচারকদের সুচিন্তিত মূল্যায়নে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়।
দিনশেষে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মুখে ছিল উচ্ছ্বাসের হাসি, আর অংশগ্রহণকারীদের চোখে ছিল নতুন স্বপ্নের দীপ্তি। কবিতার ছন্দে ছন্দে ভেসে ওঠা এই আয়োজন যেনো প্রমাণ করলো শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সম্ভাবনার অশেষ দিগন্ত।