আজ সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যাকাণ্ড: অভিযোগপত্রে মিললো ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস বর্ণনা

editor
প্রকাশিত মে ২৫, ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
রামিসা হত্যাকাণ্ড: অভিযোগপত্রে মিললো ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস বর্ণনা

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা নামে আট বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের মামলায় সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১ জুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

রবিবার (২৪ মে) বিকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই দিন ধার্য করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ২ নম্বর লেনে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানা পাশেই তিন রুমের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতো। এক রুমে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না থাকতো। তাদের রুমের সঙ্গে অ্যাটাস্ট বাথরুম ছিল। মাসুদ পারভেজ এবং জেসমিন আক্তার থাকতো দুই রুমে। তবে, কিচেন রুম ছিল কমন। সোহেল দুই মাস ২০ দিন আগে বাসা ভাড়া নেয়।

Manual8 Ad Code

মাসুদ পারভেজ এবং জেসমিন আক্তার প্রতিদিন সকাল ৬টার মধ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। প্রতিদিনের ন্যায় গত ১৯ মে তারা বাসা থেকে বেরিয়ে যান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল এই শিশুকে তার রুমে সামনে আসতে বলেন। রুমের সামনে গেলে তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। মরদেহ গুমের উদ্দেশে রুম থেকে ছুরি এনে তার মাথা কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে বিচ্ছিন্ন মাথা রাখে।

Manual2 Ad Code

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, রামিসাকে খুঁজে পাচ্ছিল না পরিবার। সোহেলদের বাসার সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। দরজায় ধাক্কা দিয়ে জোরে চিৎকার করতে থাকেন তিনি। অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন জড়ো করে দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন। এ সময় সোহেল বাথরুম থেকে রামিসার দেহ রুমে নিয়ে যায় এবং স্বপ্না মরদেহ দেখে।

দরজা ভাঙার শব্দ শুনে স্বপ্না ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। পরে লোকজন রুমে ঢুকে রামিসার লাশ দেখতে পায়। সোহেলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্না জানায়, গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে সে।

অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে, পরকীয়ার সম্পর্কের পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সোহেল ও স্বপ্না। সোহেলের প্রথম ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে।

অহিদুজ্জামান বলেছেন, “সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর মৃত্যুর সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।”তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন

 

Manual1 Ad Code