আজ বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেতন বাড়ল, এবার সেবার মানও বাড়বে তো?

editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বেতন বাড়ল, এবার সেবার মানও বাড়বে তো?

Manual3 Ad Code
স্বপন কুমার সিং, নিজস্ব প্রতিবেদক :
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন বাড়িয়ে নতুন জাতীয় বেতন-কাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মীদের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে।
তবে বেতন বাড়ানোর সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশাও বেড়েছে। সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়বে, কিন্তু সাধারণ মানুষ কি আরও ভালো সেবা পাবেন এটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সরকারি চাকরি মূলত জনগণের সেবা করার দায়িত্ব। তাই বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি অফিসে হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান জরুরি।
একজন নাগরিক যেন তার প্রাপ্য সেবা নিতে কোনো অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। বেতন বৃদ্ধি কখনো ঘুষ নেওয়ার অজুহাত হতে পারে না।
ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকারি সেবাকে আরও জনবান্ধব করা দরকার। বেতন বাড়ানোর সুফল তখনই অর্থবহ হবে, যখন একজন নাগরিক সরকারি দপ্তরে গিয়ে দ্রুত, সহজ ও ঘুষমুক্ত সেবা পাবেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেসরকারি চাকরিজীবীরা। দেশের বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ বেসরকারি খাতে কাজ করেন। তাদের অনেকের আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ে না। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন-কাঠামো থাকলেও বেসরকারি খাতে এমন সার্বজনীন কাঠামো নেই।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বেসরকারি কর্মীদের বেতন, কর্মঘণ্টা, চিকিৎসা সুবিধা, ছুটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও চাকরির নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।
মূল্যস্ফীতির সময়ে তাঁদের প্রকৃত আয় ও জীবনযাত্রার মান ধরে রাখার জন্য কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ দরকার।
সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি তাই শুধু একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নয়নেরও একটি সুযোগ। একই সঙ্গে বেসরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য আয় ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি।
শেষ কথা হলো বেতন বাড়ুক, কিন্তু ঘুষ নয়, আয় বাড়ুক, কিন্তু দুর্নীতি নয়,  বরং বাড়ুক মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সেবার মান।
সরকারি কর্মীরা যদি বাড়তি বেতনের সঙ্গে বাড়তি দায়িত্বও গ্রহণ করেন এবং বেসরকারি কর্মীদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলেই নতুন বেতন-কাঠামো সাধারণ মানুষের জন্য প্রকৃত অর্থে সুফল বয়ে আনবে।