রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র; ৪ দিন ধরে বন্ধ দ্বিতীয় ইউনিট, ত্রুটি সারাতে আসেনি ভারতীয় প্রকৌশলীরা
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র; ৪ দিন ধরে বন্ধ দ্বিতীয় ইউনিট, ত্রুটি সারাতে আসেনি ভারতীয় প্রকৌশলীরা
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
দেশব্যাপী তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে বয়লার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ও প্রয়োজনীয় কারিগরি জটিলতার কারণ দেখিয়ে টানা চার দিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই নম্বর ইউনিটের উৎপাদন। এতে এক লাফেই ১৩২০ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, যার জেরে গত চার দিন ধরে জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিং আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটের ত্রুটি সামাল দিতে ভারত থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা থাকলেও বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত তারা এসে পৌঁছাননি। ফলে ঠিক কবে নাগাদ এই কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
Manual5 Ad Code
এই কেন্দ্রে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। পরে কারিগরি ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে ৩০ বারের বেশি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।
রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, বিগত ২০১০ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসির মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে একটি কোম্পানি গঠিত হয়। এই কোম্পানির অধীনে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় এক হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ শেষে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) নামে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর এই কেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যায়। আর এরও এক বছর পরে ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদনে যায় ২য় ইউনিট।
Manual8 Ad Code
আদানির বন্ধ থাকা ইউনিট চালু, এবার বন্ধ রামপালের এক ইউনিটআদানির বন্ধ থাকা ইউনিট চালু, এবার বন্ধ রামপালের এক ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ। পর্যাপ্ত কয়লার মজুত থাকার পরও রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই নম্বর ইউনিট হঠাৎ করে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ও প্রয়োজনীয় কারিগরি জটিলতার কারণ দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়। বন্ধ হওয়ার আগে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই কেন্দ্রটি কখনোই ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
তবে হঠাৎ করেই রোববার সকালে কেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় সার্বিক উৎপাদন ১১০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। এতে করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যু সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিং আরও তীব্র হয়েছে।
বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বুধবার বিকেলে জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটের ত্রুটি সামাল দিতে ভারত থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা থাকলেও তারা এখনও এসে পৌঁছাননি। বয়লারের প্রাথমিক কাজ দেশি প্রকৌশলীরা শুরু করেছেন। ভারতীয় প্রকৌশলীরা এসে পৌঁছালে বয়লারের বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
তবে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুই নম্বর ইউনিট কবে নাগাদ চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত দিনক্ষণ জানাতে পারেননি তিনি। ভারতীয় দুই প্রকৌশলী আসার পর আরও ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানান। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ঘন ঘন কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।