প্রকৃতির পালাবদলে আজ পয়লা ফাল্গুন বা ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। বাংলা সনের একাদশ মাস ফাল্গুনের এই দিনে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলেল আবহে সেজেছে চারপাশ।
শীতের রুক্ষতা মুছে প্রকৃতিতে বইছে ফাল্গুনী হাওয়া। আজ পয়লা ফাল্গুন—ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। কবিতার পঙ্ক্তি, গানের সুর আর ফুলের রঙে প্রকৃতি ও প্রাণে জেগে উঠেছে নবজাগরণের উচ্ছ্বাস। “আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা—বসন্ত এসে গেছে”—এমনই মাধুর্যে ভরে উঠেছে চারদিক।
ফুল ফুটুক বা না ফুটুক, বসন্ত তার আগমনী বার্তা নিয়েই আসে। বন-বনান্তে, কাননে-কাননে পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, জবা, আম্রমুকুল, কনকচাঁপা, নাগলিঙ্গমসহ নানা ফুলে রঙের কোলাহল শুরু হয়েছে। শীতের স্পর্শে বিবর্ণ প্রকৃতি দখিনা বাতাসে আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠছে নবজীবনের স্পন্দনে। কচি পাতায় আলোর নাচনের মতোই দোলা লাগে তরুণ হৃদয়ে।
কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষায় ‘হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্র-সঙ্গীতে যতো আছে, হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে বনের কুসুমগুলি ঘিরে।আকাশে মেলিয়া আঁখি তবুও ফুটেছে জবা, দুরন্ত শিমুল গাছে গাছে, তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্তপথিক।’ পুরো বাংলাই আজ যেন তাই। এতদিন ধরে যার অপেক্ষা, সেই বসন্ত আজ সমাগত। আজ পহেলা ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন।
Manual7 Ad Code
বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। বসন্তে গাছে গাছে নতুন পাতা আসে। ডালে ডালে কোকিল কুহু কুহু ধ্বণি। রঙিন ফুলে প্রকৃতি সুশোভিত হয়ে ওঠে। এ যেন নবযৌবনের ডাক দিয়ে ঘাসে ঘাসে, নদীর কিনারে, কুঞ্জ-বীথিকা আর পাহাড়ে অরণ্যে হাজির হয় বসন্ত। প্রকৃতি হয়ে উঠে অপরুপ। ছড়িয়ে দেয় রঙের খেলা।
তবে প্রকৃতিতে এখনো শীতের আমেজ পুরোপুরি কাটেনি। তবুও বাতাসে আছে এক অদ্ভুত শিহরণ—সোঁদা মাটি আর বহেড়া ফুলের গন্ধ মেশানো আবেশ। হালকা এলোমেলো, কবোষ্ণ হাওয়া যেন মনে করিয়ে দেয়—‘মনেতে ফাগুন এলো…’। বসন্তের এই আবহে প্রেম, আকুলতা আর নতুন করে ভালো লাগার অনুভূতি জেগে ওঠে।
Manual1 Ad Code
বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে বসন্তের স্থান অনন্য। প্রাচীন সাহিত্য থেকে আধুনিক কবিতায় বসন্ত বন্দনায় মুখর কবিকণ্ঠ। ঋতুরাজের আগমনে কোকিলের কুহুতান, পল্লবের মর্মর আর পুষ্পের সুবাস মিলেমিশে তৈরি করে অপার্থিব আবেশ। বসন্ত মানেই পূর্ণতা, নতুন প্রাণের কলরব, সৃষ্টি ও প্রণয়ের সময়।
Manual6 Ad Code
পয়লা ফাল্গুন বা বসন্ত আমাদের সাংস্কৃতিক অনুসঙ্গ যেমন, তেমনি এ মাসের রাজনৈতিক গুরুত্বও অসীম। ফাগুনে শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙ মনে করিয়ে দেয় বায়ান্নর ফাগুনের শহীদদের কথা। মনে করিয়ে দেয় ভাষা শহীদের রক্তের ইতিহাস। এ মাসেই মায়ের ভাষা বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিলেন রফিক সফিক বরকত সালামরা। তাদের রক্তের সোপান বেয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই ফাগুন বাঙ্গালির দ্রোহেরও মাস।
Manual2 Ad Code
আজ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পয়লা ফাল্গুন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানমালা। হলুদ-কমলা শাড়ি-পাঞ্জাবিতে সেজে মানুষ উদ্যাপন করবে বসন্তের আগমন। পাতার আড়ালে লুকানো কোকিলের কুহুতান আর ফুলেল সাজে রাঙা দিনটি হয়ে উঠবে আনন্দ, ভালোবাসা ও নতুন আশার উৎসব।