আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাল ভোট, বুথ দখলসহ নির্বাচনে যেসব অনিয়ম পেয়েছে টিআইবি

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ণ
জাল ভোট, বুথ দখলসহ নির্বাচনে যেসব অনিয়ম পেয়েছে টিআইবি

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত চল্লিশ শতাংশ আসনে একাধিক অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

Manual2 Ad Code

টিআইবি সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে অনিয়মের চিত্র দেখতে পেয়েছে টিআইবি।

অর্থাৎ যে চল্লিশ শতাংশ আসনে অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো মোট তিনশত আসনের চল্লিশ শতাংশ নয়, বরং ৭০টি আসনের মধ্যে চল্লিশ শতাংশ।

Manual1 Ad Code

তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে এমন দাবি সামগ্রিকভাবে নাকচ করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

Manual1 Ad Code

প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলেও ‘ফ্যাক্ট যেটা বলছে যে, এটি গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে।”

সত্তরটি আসনে কী অনিয়ম পেয়েছে টিআইবি?

টিআইবি ৭০টি আসনে যেসব অনিয়ম দেখতে পেয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ঘটেছে ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো বা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়া।

টিআইবি বলছে, তাদের পর্যবেক্ষণ করা ৭০টি আসনের মধ্যে ৪৬.৪ শতাংশ আসনেই এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনার ছবি

৭০ আসনের ভোট পর্যবেক্ষণে আরও যেসব অনিয়মের ঘটনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:

ভোটারদের জোর করে ‘নির্দিষ্ট মার্কায়’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে ৩৫.৭ শতাংশ আসনে।

জাল ভোট দেয়া হয়েছে ২১.৪ শতাংশ আসনে।

বুথ দখলের ঘটনা ১৪.৩ শতাংশ আসনে প্রতিপক্ষের পোলিং অ্যাজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া ১৪.৩ শতাংশ
ভোট গ্রহণের আগেই ব্যালটে সিল মারার ঘটনাও একই হারে ঘটেছে অর্থাৎ ১৪.৩ শতাংশ আসনে।

রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক কার্যক্রম পাওয়া গেছে ১০.৩ শতাংশ আসনে।
ভোট কেন্দ্রে সাংবাদিকদের বাধা প্রদানের ঘটনা ৭.১ শতাংশ আসনে ভোট গণনায় জালিয়াতির অভিযোগ ৭.১ শতাংশ আসনে।

সার্বিক পর্যবেক্ষণে টিআইবি বলেছে, “শুরুতে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা গেলেও, ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা নির্বাচনী কার্যক্রমের পুরাতন রাজনৈতিক চর্চা বজায় রেখেছেন।”

“ফলে নির্বাচনে দল ও জোটের মধ্যে আন্তঃদলীয় কোন্দল, ক্ষমতার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং সহিংসতা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও অব্যাহত।”

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে?

বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিকভাবে পুরো নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হওয়ার অভিযোগ আবার নাকচ করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, “আমাদের বিবেচনায় আমরা কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং পাইনি। নির্বাচন তুলনামূলক সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।”

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান (ফাইল ছবি)

তবে প্রতিবেদনে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ এসেছে এমন মন্তব্য করা হয়।

এক্ষেত্রে এগার দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ‘ভোট গণনায় অনিয়মসহ’ দশ শতাংশ পর্যন্ত কারচুপির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটা উল্লেখ করা হয়।

বলা হয়, ঐ জোটের পক্ষ থেকে ৩২টি আসনে ভোট পুনরায় গণনার দাবি তোলা হয়েছে।

নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলো?

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। ফলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলো কিনা প্রশ্নোত্তরপর্বে এমন প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন আওয়ামী লীগের অনেকেই ভোট দিয়েছেন।

“তৃণমূল পর্যায়ে অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে বলেছিলেন। তারা ভোট দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের শতভাগ নেতাকর্মী ভোট দেননি এটা বলার সুযোগ নেই।”

মি. জামান বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেও ‘তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন’।

যদিও ‘দলের একটি অংশ ভোট বর্জন করেছে’- যা সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

Manual8 Ad Code

‘এখানে ফ্যাক্ট যেটা বলছে যে, এটি গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে।”

 

তথ্য সুএঃ বিবিসি বাংলা