আজ শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর। একমাস সিয়াম সাধনার পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উদযাপন করছেন তাদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঈদের প্রধান জামাত। ঈদকে ঘিরে শহর ও গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নতুন পোশাক পরে সবাই আজ আনন্দে মেতে উঠবে, পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে চলবে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি।
Manual6 Ad Code
এবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ভেতরে ঈদের নামাজ আদায় করলেও এবার তিনি জাতীয় ঈদগাহে অংশ নিচ্ছেন। অপরদিকে সে সময় প্রধান উপদেষ্টা তার উপদেষ্টা পরিষদকে নিয়ে আলাদাভাবে নামাজ আদায় করেছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব একসঙ্গে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায়কে অনেকেই ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ঈদ উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে ও প্রবাসে বসবাসকারী সব বাংলাদেশি এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর অপার খুশি আর আনন্দের সুসংবাদ নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। রমজানে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিন মুসলমানরা সব অন্যায়, অবিচার ও পাপাচার থেকে মুক্ত হয়ে উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন ও পারলৌকিক মুক্তির প্রয়াস পায়। ঈদের দিনে ধনী-গরিব সবাই এক কাতারে শামিল হন এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও সৌহার্দ্যময় রাষ্ট্র গঠনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য অপরিসীম। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার শুভসূচনা ঘটেছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় আমরা এগিয়ে চলেছি। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের এ অভিযাত্রায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সবার মধ্যে নতুন উদ্যম ও অনুপ্রেরণা যোগাবে এ প্রত্যাশা করি।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের অনাকাঙ্ক্ষিত অভিঘাতে দেশের বিত্তবান ও সচ্ছল শ্রেণিকে দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর পাশে আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান রাষ্ট্রপতি।
Manual3 Ad Code
ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। পবিত্র রমজান মাস সংযম, ত্যাগ, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির অনন্য শিক্ষা দেয়। এর মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত হয়।
রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিফলিত করাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য জানিয়ে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদ আমাদের ধনী-গরিব, ছোট-বড় সব ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়। এ আনন্দের দিনে আমরা যেন সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াই এবং সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিই– এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
ঈদুল ফিতরে ঈদের জামাত ঢাকায় ১২১টি ঈদগাহ এবং ১৫৯৯টি মসজিদে ১৭৭১টি অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে প্রধান জামাত শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে বা অন্য কোনও অনিবার্য কারণে এ জামাত অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে।
এদিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত সকাল ৭টা, সকাল ৮টা, সকাল ৯টা, সকাল ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদ জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে এবারও ঈদের জামাতের আয়োজন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ঈদের দিন সকাল ৮টায় এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।