একাত্তরে পাকিস্তানি গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি, মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব উত্থাপন
একাত্তরে পাকিস্তানি গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি, মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব উত্থাপন
editor
প্রকাশিত মার্চ ২২, ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভায় একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এই প্রস্তাবে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের দ্বারা পরিচালিত ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Manual4 Ad Code
প্রস্তাব উত্থাপন ও প্রেক্ষাপট
গত ২০ মার্চ (শুক্রবার) মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনার জন্য বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরুর মাধ্যমে যে দমন-পীড়ন শুরু হয়েছিল, তা ছিল সুপরিকল্পিত এবং জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত।
নৃশংসতার দলিল
উত্থাপিত প্রস্তাবে ইতিহাসের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে:
আর্চার ব্লাডের টেলিগ্রাম: তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ঢাকা থেকে পাঠানো বার্তায় একে ‘নির্বাচিত গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং মার্কিন সরকারের নীরবতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, যা ইতিহাসে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে পরিচিত।
অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের প্রতিবেদন: দ্য সানডে টাইমস-এ প্রকাশিত সাংবাদিক মাসকারেনহাসের ‘জেনোসাইড’ নিবন্ধের উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, কীভাবে তালিকা করে বাঙালিদের হত্যা করা হয়েছিল।
সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির রিপোর্ট: ১৯৭১ সালের নভেম্বরে জমা দেওয়া কেনেডির প্রতিবেদনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চালানো সন্ত্রাস ও হিন্দুদের ওপর বিশেষ নির্যাতনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
নারীর ওপর সহিংসতা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু
প্রস্তাবটিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, ২ লাখের বেশি নারী পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। এ ছাড়া, হিন্দু সম্প্রদায়কে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তাদের শরীরে হলুদ রঙের ‘এইচ’ চিহ্ন এঁকে দেওয়া এবং পদ্ধতিগতভাবে তাঁদের সম্পত্তি লুট ও নিশ্চিহ্ন করার যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘গণহত্যা’র সংজ্ঞায় পড়ে।
প্রতিনিধি পরিষদের কাছে প্রধান দাবি
Manual5 Ad Code
প্রস্তাবটিতে মূলত চারটি প্রধান বিষয় গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে:
১. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানানো।
২. বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ বাঙালিদের ওপর চালানো এই হত্যাযজ্ঞকে স্বীকৃতি দেওয়া।
৩. হিন্দু ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো পরিকল্পিত দমন-পীড়নকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা।
Manual5 Ad Code
৪. যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তিনি ১৯৭১ সালের এই নৃশংসতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’, ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ভয়াবহ ইতিহাস নথিবদ্ধ করা এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি বলে প্রস্তাবে মন্তব্য করা হয়েছে। এটি কেবল ভুক্তভোগীদের স্মৃতি রক্ষাই করবে না, বরং ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা রোধে বিশ্ববাসীকে সচেতন করবে।
Manual1 Ad Code
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রস্তাব পাস হলে তা ১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।