ফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা রুখতে কঠোর অমিত শাহ
ফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা রুখতে কঠোর অমিত শাহ
editor
প্রকাশিত মে ১, ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর রাজ্যে যেকোনও ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা রোধ করতে মরিয়া ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগামী ৪ মে ফল ঘোষণার পর রাজ্যে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, যাতে ২০২১ সালের মতো সহিংসতা না ঘটে। এরই মধ্যে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী দুই মাস পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন থাকবে। কলকাতা-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই আগেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বাংলায় এসেছিলেন। এছাড়া, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ভুপেন্দ্র যাদব ২ মে কলকাতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
Manual8 Ad Code
শান্তি বজায় রাখতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। দলের পশ্চিমবঙ্গ পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল আগামী দু’দিনে দলীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন। কর্মীদের বার্তা দেওয়া হবে যে, বিজয়োৎসবের নামে কোনও ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং বিজেপি যে রাজনৈতিক হিংসায় বিশ্বাস করে না, এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে মূল লক্ষ্য।
Manual8 Ad Code
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আমরা চাই না ২০২১ সালে আমাদের কর্মীদের ওপর যা ঘটেছিল, এবার তা কারও সঙ্গে ঘটুক। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে সরকার গঠন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাজ্যপাল আর এন রবির কাছেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হবে।
৪ মে ফল ঘোষণাকে সামনে রেখে দুই দলই পরস্পরের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। অমিত শাহ সতর্ক করে বলেছেন, তৃণমূলের ‘দুষ্কৃতকারীদের’ কঠোরভাবে দমন করা হবে। অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কিছু জায়গায় ‘রবীন্দ্রসংগীতের’ বদলে ‘ডিজে’ বাজবে।
Manual7 Ad Code
উল্লেখ্য ২০২১ সালের ২ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। বিজেপির দাবি, সেই সময়ে তাদের ৫০ জনেরও বেশি কর্মী নিহত হন, নারীরা ধর্ষণের শিকার হন এবং অনেক কর্মীকে মাসের পর মাস ঘরছাড়া থাকতে হয়। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে, তাদের কর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন।
২০২১ সালে সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা বীরভূমের কথা উল্লেখ করেছেন এক বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, সেখানে অনেক কর্মী আক্রান্ত হয়েছিলেন, ফলে প্রতিশোধের মনোভাব থাকতে পারে। আমাদের চ্যালেঞ্জ সেটি ঠেকানো।
তিনি আরও বলেন, জয়ের ব্যাপারে দল আত্মবিশ্বাসী এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে জয় বা পরাজয়, উভয় পরিস্থিতিতেই দলের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অমিত শাহর জন্য বড় পরীক্ষা হবে।
Manual7 Ad Code
দলটির মতে, জয়ী হলে সহিংসতা প্রতিরোধ করাও তাদের দায়িত্ব, কারণ পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি মুছে ফেলতে চায় বিজেপি।